টাঙ্গাইলে বিদেশফেরত নারী-শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা

টাঙ্গাইল সদর প্রবাস লাইফ স্টাইল সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে বিদেশ ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইল নগর জালফৈস্থ ব্র্যাক আঞ্চলিক কার্যালয়ে ৫ মে মঙ্গলবার এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর সরকার হাসান ওয়াইজের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট (রেফারেল অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) সাবিনা সাঈদ। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির রাখেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা। বিশেষ অতিথির ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফাতেমা বেগম।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভাষা ও কাজ শিখে তবেই বিদেশ যেতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। নারী কর্মীদের বিদেশ যেতে কোনো টাকা লাগে না। কিন্তু স্থানীয় দালালদের খপ্পরে পড়ে তারা টাকা লেনদেন করেন। এ ধরনের বেআইনি কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

বক্তারা আরও জানান, সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশ-ফেরত ও বিদেশগামীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দেশে ফিরেও স্বাবলম্বী হতে পারেন।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ এবং বিদেশফেরতদের অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্প বর্তমানে বিদেশ-ফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ কর্মশালায় কয়েকজন বিদেশ ফেরত নারী অভিবাসী তাদের প্রবাস জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেন। তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তারা কিভাবে ব্র্যাকের সহযোগিতায় নতুন কর্মজীবন শুরু করেন, সে কথা বলেন।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিদেশফেরত অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *