ঘাটাইলের ১৮ বস্তা সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় পিকাপসহ চালক আটক!

অপরাধ ঘাটাইল দুর্নীতি পরিবেশ প্রতিষ্ঠান ভূঞাপুর স্বাস্থ্য

ঘাটাইল প্রতিনিধি: ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পাশ্ববর্তী উপজেলা ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে পিকআপ ভর্তি ওষুধসহ এক চালক আটক হয়েছেন। পরে তাকে পিকআপসহ ভূঞাপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

 

বুধবার, ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের টি রোডের কালা সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নিয়ে যমুনা নদীর তীরে আসেন চালক। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পিকআপটি আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ পিকআপটি থানায় নিয়ে আসে। তবে এ সময় পিকআপে থাকা অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আটক পিকআপ চালক ও মালিক আজমতের জানান, পিকআপ ভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। এর আগেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, সে সময় ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলে পরিবেশের ক্ষতি এবং সরকারি সম্পদের এমন অপচয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, স্থানীয় জনগণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসহ পিকআপটি আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিকআপ ও মালামাল থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পঃ পঃ) আবু নাইম সোহেল জানান, এতগুলো ঔষধ নদীতে ফেলতে নিয়ে গেছে বিষয়টি আমি জানি না। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসল ঘটনাটি বের হয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *