সখীপুরের হাজারো মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো!

অর্থনীতি দুর্ঘটনা পরিবেশ সখিপুর

সখীপুর প্রতিনিধি: সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুঁড়ি গ্রাম থেকে কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা গ্রামে যাওয়ার একমাত্র সড়কে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও দুই গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি একটি টেকসই সেতু। ফলে হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের মাঝখানে রয়েছে ‘মরিচকুঁড়ি জোড়া’ নামে একটি খাল। খালটির ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়েই দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত। এই পথে সরাসরি পারাপারে সময় লাগে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট। কিন্তু বিকল্প পথে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে হলে সময় লাগে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট।

তিনি আরও বলেন, সাঁকোটি কোনোভাবে মানুষ পার হতে পারলেও মোটরসাইকেল, ভ্যান বা কৃষিপণ্য বহনকারী যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব। এতে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে ধান, হলুদ, কচু ও বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় কৃষকদের। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির স্রোতে সাঁকো নড়বড়ে হয়ে গেলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবার নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়। বছরের পর বছর আমরা একই দুর্ভোগে আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে এই সড়কটি এলাকার মানুষের প্রধান চলাচলের পথ। এত দীর্ঘ সময়েও এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হন। আমরা দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী পারভেজ জানায়, সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক সময় খালে পড়ে কাপড় ভিজে যায়, ফলে স্কুলে যেতে দেরি হয়। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তারও।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *