
মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২২ জুলাই রাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ তাঁর ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে মারধর ও একপর্যায়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তিনি।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর নানাবাড়ি থেকে এসে বড় ছেলে মায়ের গুরুতর অবস্থা দেখে তাঁকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই তাঁর ওপর চালানো নির্যাতন ও ধর্ষণের বর্ণনা দেন। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে গতকাল মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন স্বামী। তিনি বাদী হয়ে আরিফকে একমাত্র আসামি করে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আজ মরদেহ বাবার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আরিফ পলাতক রয়েছেন।
শনিবার বিকালে উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান ও উপপরিদর্শক আতাউর রহমান সরেজমিন তদন্তে যান।
বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামী শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি এসে আরিফকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
