টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কে ভাঙন, যানবাহন চলাচল বন্ধ: বিকল্প পথে ভোগান্তি

টাঙ্গাইল সদর দুর্ঘটনা পরিবেশ ভূঞাপুর

ভূঞাপুর প্রতিনিধিটাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ধসে পড়া অংশের কাজ গত সাত দিনেও শেষ হয়নি। এতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। আর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন সড়কের পাশের বাসিন্দারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, তারা দ্রুতই কাজ করছে।

 

জানা যায়, গত রবিবার হঠাৎ করেই যমুনার তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাখারিয়াতে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের ২৫ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়। পরবর্তীতে ভাঙন ৮০ মিটারে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভাঙনের কারণে সড়কটিতে ৭ দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীবাহী বাস, পণ্য পরিবহন, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে চলতে হচ্ছে বিকল্প পথে। এতে অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয় ও ভোগান্তি। যেকোনো সময় পুরো সড়ক ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকার শঙ্কা স্থানীয়দের। আতঙ্কে এখন প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাখারিয়ার গ্রামের মানুষের।

তবে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়াও জিও ব্যাগের পাশাপাশি টিউব ব্যাগও ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনরোধ কাজ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। জিও ব্যাগের পাশাপাশি টিউব ব্যাগও ফেলা হচ্ছে। আশপাশের বাসিন্দারা অনেক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত মেরামত করা না গেলে পুরো বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন তারা। এতে আমরা হুমকির মধ্যে রয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এখনো ভাঙনের অংশে কাজ চলছে। যদি রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে যায়, তাহলে গোপালপুর এবং ভূঞাপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল প্লাবিত হবে। আশা করছি দ্রুতই যেন ভাঙনরোধের কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হযরত বলেন, আমরা এখন ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছি। ঠিক মতো ঘুমাতে পারছি না। রাস্তাটি ভেঙে গেলে আমাদের বাড়িঘরসহ জমিজমা তলিয়ে যাবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড শুরু থেকেই কাজ করছে।

আনোয়ারা নামের এক নারী জানান, আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছি।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দীন বলেন, অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির স্রোতে এ অংশ ভেঙে যায়। এ অংশটি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভাঙনরোধে আমাদের জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, নদীতে চর জাগার কারণে যমুনা নদীর পানির স্রোত রাস্তায় হিট করতেছে। যার ফলে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে গভীর হচ্ছে। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস ছালাম পিন্টু এমপি বলেন, ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে আমাদের সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বড় বড় পাইপ ব্যাগও ফেলে নদীভাঙন রোধ হয়েছে। স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণে আমাদের দাবি রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজও করছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *