
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযোজিত করতে চার দিনব্যাপী ‘Student Grooming and University Adaptation Program’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি ১৮–২১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তলা একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুম–১ ও কনফারেন্স রুম–২-এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে রয়েছে FutureNation ও UNDP Bangladesh।
চারদিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, একাডেমিক পরিবেশ, নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক সুযোগ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিদিন সকাল ৯:৩০টা থেকে বিকেল ৫:১৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী একাধিক সেশন পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চারটি গ্রুপে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কর্মসূচির প্রথম দিনে “Thrive at MBSTU: Life Beyond the Classroom” এবং “Building a Safe, Respectful and Ethical Campus” শীর্ষক দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং সেবা, ছাত্রকল্যাণ, ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা, র্যাগিং ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ, সম্মানজনক ও নৈতিক ক্যাম্পাস গঠনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সেশন দুটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ।
১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত “Starting Strong: Thriving in University Life” শীর্ষক সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন, মিশন ও মূল্যবোধ, একাডেমিক সততা, দায়িত্ববোধ, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা নয়; এটি নিজেকে একজন দক্ষ, মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সূচনা। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চরিত্র গঠন, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে কেবল ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়। যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের গ্রুমিং ও অভিযোজনমূলক কর্মসূচি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সফলভাবে অভিযোজিত হতে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে এবং একজন দায়িত্বশীল, উদ্ভাবনী ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৯ জুলাই সেশন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুছা মিয়া। সদস্য ছিলেন বিজিই, রসায়ন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানগণ।
কর্মসূচির শেষ দিন, ২১ জুলাই “Lead Yourself Before You Lead Others” শীর্ষক সেশনে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব, সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
