“এতিম ও শহরে থাকি বলেই সমাজচ্যুত” — টাঙ্গাইলে যুবকের অভিযোগ!

অপরাধ টাঙ্গাইল সদর দুর্নীতি প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইল সদরের বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদ সমাজ থেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকার এক বাসিন্দা কাউছার মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন বিন্যাফৈর এলাকার বাসিন্দা, তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সদস্য আবু সাঈদ মাস্টার তাকে জানান— তিনি এতিম, তার মা-বাবা নেই এবং চাকরির কারণে শহরে বসবাস করেন, এ কারণেই তাকে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চাকরির কারণে শহরে থাকা কিংবা মা-বাবা না থাকা কোনো মানুষের অপরাধ হতে পারে না।

তিনি আরও জানান, বিন্যাফৈর বাজার জামে মসজিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তার দাদা ও বাবা একসময় মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও মসজিদের নামে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৭ শতাংশ জমি দান করা হয়েছে।
শুধু মসজিদ নয়, বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার দাদার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনাকে তিনি অন্যায় ও অপমানজনক আখ্যা দিয়ে এলাকাবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন— তার সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা কতটুকু ন্যায়সঙ্গত?

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিষয়টিকে অন্যায় ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বলেন, যে পরিবারের এত অবদান এই মসজিদের জন্য রয়েছে, সেই পরিবারের একজন সদস্যকে এভাবে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি।

আরেকজন এলাকাবাসী সুমন আহমেদ বলেন, কেউ চাকরির কারণে শহরে থাকলে তাকে সমাজ থেকে বাদ দেওয়া অমানবিক সিদ্ধান্ত। বর্তমানে অনেকেই জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন।

একই সমাজের অপর সদস্য ফজলু মন্তব্য করেন, মা-বাবা না থাকা কোনো মানুষের অপরাধ হতে পারে না। এমন কারণ দেখিয়ে কাউকে সমাজচ্যুত করা মানবিকতার পরিপন্থী।

স্থানীয় আরেক সচেতন ব্যক্তি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বসে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত ছিল। এভাবে একজনকে অপমান করা ঠিক হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান, মসজিদ সমাজে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আহ্বান জানান।

তবে এ বিষয়ে বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক-এর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *