
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ মুহূর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে মহাসড়কে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পরিবহন পাচ্ছেন না। আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ি যাচ্ছেন। এ অবস্থায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস, ঘরিন্দা, নগর জলফয়, করাতিয়া, পাকুল্লা, মির্জাপুর এবং এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তীব্র গরম আর বাতাসের ধুলোবালির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থেকে যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গণপরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই বাসের ছাদ, খোলা ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরও ঝুঁকি নিয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ী ফিরতে দেখা গেছে। মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনবাহিনী সদস্যরাও যানজট নিরসনে কাজ করতে দেখা যায়।
মহাসড়কের এলেঙ্গায় নাহিদ হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে বগুড়া যাবো। এখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি। অন্যদিকে ২০০-৩০০ টাকার ভাড়া হাজার টাকা চাচ্ছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন পাচ্ছি না। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
আরেক যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, ঈদ করতে রংপুরে যাবো। ৩০ মিনিটের ওপরে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছি কিন্তু কোনো পরিবহন পাচ্ছি না। জানি না কখন পরিবহন পাবো।
ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) আনিসুর রহমান জানান, মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করি ঈদযাত্রা আরামদায়ক হবে।
এদিকে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিকেল পর্যন্ত কোনো যানজট হয়নি, তবে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় গাড়ির চাপ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, সেতু পারাপার সহজ করতে উভয় পাশে ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি রাখা হয়েছে মোটরসাইকেলের জন্য। এ ছাড়া যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দুটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পথে কোনো গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে জরুরি সহায়তার জন্য জ্বালানি তেলেরও বিশেষ মজুত রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা কাজ করছি।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজা-ই-মল্লিক বলেন, পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। যেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে, সেখানেই কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।
