টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

অপরাধ ঘাটাইল নির্বাচন মিডিয়া রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইল-৩ আসনে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ বিজয়ী হবার পর তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে লুৎফর রহমান খান আজাদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দল আমাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করে। তারপরও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি।

আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে আমার নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন হুমকি, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। নির্বাচনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নির্বাচনের পূর্বরাতে ভুয়া ফেসবুক পেজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি বলে মিথ্যা অপপ্রচার করে। এ বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো প্রকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি।

 

ভোটের দিন রসুলপুর ইউনিয়নের সরাবাড়ি কেন্দ্রে ওবায়দুল হক নাসিরের নির্দেশে হান্নান ও আব্দুল মান্নান কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বক্স ছিনিয়ে নেয়। এমতাবস্থায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন। একই ইউনিয়নে শালিয়াবহ জাংগালিয়া কেন্দ্রে ভোটার ও আমার কর্মী সমর্থকদের মারপিট করে।

এছাড়া, সত্তুরবাড়ি কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে গিয়ে পাপিয়া ও পাপিয়ার স্বামী নুর মোহাম্মদ আটক হন। এ ছাড়া ভোটের দিন দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাকুটিয়া, খিলগাতি, ঘাটাইল পৌরসভার রতনপুর মুকুল একাডেমি, ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের করিমপুর, লোকেরপাড়ার বীরসিংহ দিঘলকান্দি ইউনিয়নের সাবুটি, দিগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে আমার সমর্থকদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালায়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরের দিন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির তার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা আমাদের কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং তাদের হামলায় বিভিন্ন এলাকায় আমার ১৫ থেকে ২০জন কর্মী আহত হয়ে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি বিগত ৩৭ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলের সঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছি। গণতন্ত্রের মা আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আগমন। দলের প্রতি আস্থা অর্জন করায় বার বার আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন এবং ঘাটাইলের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করায় চারবারের এমপি এবং তিনবার মন্ত্রীত্ব পালনে সুযোগ পাই। আমি আজীবন বিএনপিতে আছি, থাকব।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তার আহত নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *