
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার বা চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে জনসেবা চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এখানে ৫১টি স্টলে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিয়েছেন।
চাকরির মেলায় জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বিনামূল্যে চাকরি মেলায় অংশগ্রহণ করতে পেয়ে খুশি ৬ হাজারের অধিক রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাশীরা।
এদিন সকালে বেলুন ও ফিতা কেটে চাকরির মেলার উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুমাইয়া মমিন, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মেলায় চাকরি প্রত্যাশীদের ঢল নামে। মেলায় আগত চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির স্টলে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন। ভাইভা শেষ করে যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এসএসসি থেকে মার্স্টাস পাস সবাই চাকরির আবেদন করতে পারছেন। যেসব প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে, তারাও এ চাকরি মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন। পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও চাকরির সুযোগ রাখা হয়েছে।
সকাল থেকেই ভিড় করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খভাবে তাদের সিভি জমা দিচ্ছেন। পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অনলাইনে এবং অফলাইনেও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করছেন প্রত্যাশীরা।
চাকরি প্রত্যাশীরা বলেন, বিভিন্ন পদে আমরা চাকরির আবেদন করেছি। এ আয়োজনটি খুবই ভালো লেগেছে। এখানে এসে নতুন নতুন কিছু জানার সুযোগ হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অনেক বিষয়ে কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ইমরান হাসান নামের এক যুবক বলেন, এর আগেও কলেজে চাকরির মেলায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। এখানেও এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছি। প্রচুর লোক সমাগম দেখছি। আশা করছি যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি পাবো।
শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, প্রথমে আমরা সিভিগুলো সংগ্রহ করছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সঠিক ব্যক্তিতে চাকরি দেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, উদ্যোগটি ভালো। তরুণ সমাজের বেশি সমস্যা মাদক যুব সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই ধরনের আয়োজন মাদকের বিরুদ্ধেও কাজে লাগবে। জেলা পুলিশ এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, যোগদানের পর থেকেই চাকরি প্রত্যাশীরা চাকরি খুঁজে আমার দপ্তরে আসতেন। এক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে চিন্তা করছিলাম এসব চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য এমন প্লাটফর্ম তৈরি করে এক সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া সহজ হয়। সে উদ্দেশ্যেই আজকে চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করছি ৫শ’ থেকে ৬শ’ জনকে চাকরি দিতে পারবো। প্রতি বছরই এমন চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে।
