
মধুপুর প্রতিনিধি: মধুপুরে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
শনিবার, ২ মে সকাল ৯টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মধুপুর অডিটরিয়াম হল রুমের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনে সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সহসভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এপ্রিল ম্রি, মাজিদুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, মোঃ শাহজাহান আলী, সালমা আফরোজ, মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোখলেসুর রহমান, মোঃ হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সালাম, দপ্তর সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, আইন সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ আবুল বাসার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুধান দে নির্বাচিত হন। ৬ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এবং ১৮টি পদে ৩৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪’শ ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে ৪’শ ৭০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নির্বাচন পরিচালনায় ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির পক্ষে সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মুকুল একডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন। একই উপজেলার শিক্ষক সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট গ্রহণ করেন।
নির্বাচনকালীন সমিতির আহ্বায়ক আম্বারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব নুরুন্নবী শিহাবের দক্ষ পরিচালনা ও উপদেষ্টা পরিষদের দিক নির্দেশনায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ চলে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এ ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জুবায়ের হোসেন, অফিসার ইনচার্জ একে এম ফজলুল হক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সহ-সভাপতি এম রতন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির আব্দুল লতিফ পান্না ও গণমাধ্যমকর্মী।
উল্লেখ্য, নানা জটিলতা ও অনিবার্য কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সংগঠনের নির্বাচন বন্ধ ছিল। অবশেষে ৩৬ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
