মির্জাপুরে অসময়ে বংশাই ও লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ফসলি জমি

অর্থনীতি দুর্ঘটনা পরিবেশ মির্জাপুর

মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুর উপজেলায় অসময়ে বংশাই ও লৌহজং নদীর তীব্র ভাঙন ক্রমাগত বেড়ে চলায় বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা, হাট-বাজার, মসজিদ-মন্দির, জনপথ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। চরম হুমকির মুখে বান্দরমারা-পাথরঘাটা ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এই সময়ে বংশাই ও লৌহজং নদীর আশপাশে ভাঙনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে বলে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারগুলো অভিযোগ করেন।

 

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা বলেন, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, গোড়াইল, গাড়াইলসহ বিভিন্ন গ্রামগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি বলেন, বংশাই ও লৌহজং নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জরুরিভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসব এলাকায় ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, হাট বাজার ও রাস্তাঘাট ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়ার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। নদী ভাঙনে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা বিলীন হয়ে মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তীব্র নদী ভাঙনে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, হাট ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মির্জাপুর-বাসাইল রাস্তা, ফতেপুর-মহেড়া-মির্জাপুর রাস্তাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং হাট ফতেপুর হাট ও বাজার এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

এছাড়া ফতেপুর পালপাড়া এলাকার শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।এই ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রাম এখন মির্জাপুরের মানচিত্র থেকে একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বংশাই নদীর ভাঙনের ফলে ফতেপুর, থলপাড়া, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা, চাকলেশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙনক বলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

বংশাই নদীর মির্জাপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড গাড়াইল ও পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া, ৫নং ওয়ার্ডের কুমারজানি ও বাওয়ার কুমারজানি, ২নং ওয়ার্ডের পুষ্টকামুরী পশ্চিমপাড়া হুমকির মুখে পড়েছে। এই তিন ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন অবস্থা। বংশাই নদীর তীব্র ভাঙনে বান্দরমারা-পাথরঘাটা ৮ কি. মি. বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে বলে তারা অভিযোগ করেছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যেতে পারে কয়েকটি এলাকা। ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ হোসেন বলেন, নদী ভাঙন থেকে রক্ষা ও ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ ফতেপুর ইউনিয়নকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ইতিপূর্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারপরও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হয়নি।

অপরদিকে, লৌহজং নদীতেও একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী নরদানা গ্রামের ওয়াজেদ আলী, উফুলকী গ্রামের লুৎফর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, ইচাইল, সারুটিয়া, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অসময়ে নদী ভাঙনে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বিএনবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আবাসিক ভবনসহ হোস্টেলের ৭-৮টি ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, হাট বাজারসহ ফসলি জমি। প্রায় ৭-৮টি পাকা ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম বলেন, অসময়ে বংশাই ও লৌহজং নদীর আশপাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনকবলিত বেশ কয়েকটি এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ওইসব এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, মির্জাপুরে বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙনে বিভিন্ন এলাকায় বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বংশাই ও লৌহজং নদীর পৌরসভাসহ বেশি ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী সার্বিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *