মধুপুরে চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আটক ১

অপরাধ আইন আদালত দুর্ঘটনা মধুপুর

মধুপুর প্রতিনিধি: মধুপুরে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। মামলার পর পুলিশ এক অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।

 

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, হাত-পা বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা হচ্ছিল। একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত স্থানীয় এক কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবার কবিরাজি চিকিৎসার জন্য মোশারফ হোসেনের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরে ইমাম হাসান হৃদয়ের মাধ্যমে মোশারফের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য মধুপুর উপজেলার গোপদ এলাকার মোশারফ হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে মোশারফ কিশোরীকে চিকিৎসার কথা বলে একটি কক্ষে নিয়ে যান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর মোশারফের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা ইমাম হাসান হৃদয় ও সেলিম ওরফে আল আমিন ওই কক্ষে প্রবেশ করেন এবং কিশোরীর ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকার শুনে তাঁর মা ও স্বজনেরা সেখানে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মোশারফ তাঁদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মো. এজাজুল করিম রেজাউল মধুপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় অরণখোলা এলাকার বাহারাম বাদশার ছেলে ইমাম হাসান হৃদয় (২৩), গোপদ এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন (২৭) এবং মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছেলে সেলিম ওরফে আল আমিন (৩১)-কে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেলিম ওরফে আল আমিনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।

মধুপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মামলার অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *