বাসাইলে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই, সাতটির মাংস উধাও!

অপরাধ কৃষি পরিবেশ বাসাইল স্বাস্থ্য

বাসাইল প্রতিনিধি: বাসাইল উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দশটি ঘোড়া জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতটি ঘোড়ার মাংস কে বা কারা নিয়ে গেছে। বাকি তিনটি জবাই করা ঘোড়া ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

রোববার, ৩০ আগস্ট সকালে বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে স্থানীয়রা জবাই করা ঘোড়া, ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও হাড় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের আঁধারে ১০টি ঘোড়া জবাই করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ৭টি ঘোড়া জবাই করে মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি। সকালে স্থানীয়রা তিনটি জবাই করা ঘোড়া ও ৭টি ঘোড়ার মাথা, হাঁড়, চামড়া পড়ে থাকতে দেখে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও থেকে ঘোড়া নিয়ে এসে এই নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় জবাই করা হয়েছে। ভোর হওয়ার কারণে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি, ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পেরেছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ বলেন, সকালে শুনতে পাই ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। ৭টি ঘোড়ার মাংস নিয়ে গেছে। তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে গেছে। আমরা কীভাবে বাজার থেকে গরুর মাংস কিনব? গরুর মাংস কিনতে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ বলেন, সকালে শুনতে পাই, পরিত্যক্ত বাড়িতে দশটি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। সাতটি ঘোড়ার মাংস নিয়ে গেছে। তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে গেছে। সাতটি ঘোড়ার মাথাও সেখানে রেখে গেছে তারা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন মানুষ কীভাবে বাজার থেকে গরুর মাংস কিনবে? গরুর মাংস কেনার ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা হারিয়ে যেতে পারে।

বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জবাই করা তিনটি ঘোড়াসহ সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আমাদের ধারণা, রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়। ভোর হয়ে যাওয়ায় ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পারে, তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। অন্য কোথাও থেকে ঘোড়া নিয়ে এসে এখানে জবাই করেছে।

তিনি আরো বলেন, এসব ঘোড়ার মাংস শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে গরু বা খাসির মাংসের নামে তা মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *