সখিপুরে লেয়ার মুরগির ফার্মের বর্জ্যে জনজীবন বিপন্ন

অপরাধ দুর্ঘটনা পরিবেশ সখিপুর স্বাস্থ্য

সখিপুর প্রতিনিধি: সখিপুর উপজেলার দাড়িয়ারপুর ইউনিয়নের দেওবাড়ী গ্রামের জনবসতি এলাকায় গড়ে ওঠা দুটি লেয়ার মুরগির ফার্মের বর্জ্য ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

​​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোঃ জমেস উদ্দিন কালো মিয়া দাড়িয়ারপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দেওবাড়ী গ্রামে বসতবাড়ির পাশে প্রায় ৮০ শতাংশ জমি জুড়ে দুটি লেয়ার মুরগির ফার্ম পরিচালনা করছেন। শুরুতে ছোট পরিসরে ফার্মটি চালু করা হলেও বর্তমানে এর আয়তন অনেক বাড়িয়ে জনবসতির একেবারে সন্নিকটে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

অভিযোগে জানা যায়, ফার্ম থেকে নির্গত বর্জ্য ও দুর্গন্ধে সেখানকার বাতাস বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া, ফার্মের মশা-মাছি গৃহস্থালির খাদ্যসামগ্রীর ওপর বসায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ফার্মের কারণে আশপাশের ১৫০-২০০ শতাংশ জমিতে কোনো ফসলও ফলানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

​ভুক্তভোগীদের দাবি, এর আগেও বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছিল এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো কিছু তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক ফার্ম দুটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

​এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগকারী মোঃ কাজীম উদ্দিন জানান, আমরা চরম দুর্ভোগে রয়েছি। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া জানা যায়, উক্ত ফার্মের পরিচালক কালো মিয়া আবুল হোসেন নামক এক ব্যক্তিকে আঘাত করে পঙ্গু করে দেওয়ার ফলে কালো মিয়া বর্তমানে জেলহাজতে আছে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সভাপতি কাজিম উদ্দিন, শ্রমিক দল সদস্য মনির হোসেন, শিফাতন, আহত আবুল হোসেন, সুজন আহমেদ, বাছিরন, আল আমিন, রাবিয়া, রহিম মিয়া তদীয় স্ত্রী নার্গিস, ফরিদা পারভীনসহ শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু। তারা সবাই পরিবেশ দূষণকারী ফার্মের অপসারণ চান। ​এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *