গোপালপুরের তিন যুবককে রাশিয়ায় যুদ্ধে পাঠানোর আশঙ্কা!

গোপালপুর দুর্ঘটনা প্রবাস

গোপালপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুরের তিন যুবক সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নত জীবনের আশায় গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমান; কিন্তু সেখানে পৌঁছার পর তাদের জোরপূর্বক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ঈদের রাতে কৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের উদ্ধার করা না হলে যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪০)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-২৫০৫) নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় যান আমিনুল ইসলাম। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান। একই দিনে পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র এবং মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলামও রাশিয়ায় যান। তাদের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানরা।

পরিবারগুলোর অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য তারা জমিজমা বিক্রি, ঋণ গ্রহণ এবং সুদে টাকা এনে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামে এক নারীর মাধ্যমে ওই দিন প্রায় ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হলরুমে রাশিয়ান আর্মির পক্ষ থেকে তাদের ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে, যেখানে জুলিয়া নামের ওই নারীও উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিন তিন পরিবারের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ সেখানে পরিণত হয়েছে উদ্বেগ ও কান্নায়। পরিবারের সদস্যদের একটাই প্রশ্ন- সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কিছু হলে পরিবার কিভাবে চলবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎই বা কী হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যালয় বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভুক্তভোগীদের সেনাবাহিনীতে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি পরিবারগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত ওই ৩০ জনকে উদ্ধারে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *