টাঙ্গাইলে পৃথক দুইটি হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

অপরাধ আইন আদালত দুর্ঘটনা দেলদুয়ার ভূঞাপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার, ২২ জুলাই দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ এবং স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এ রায় দেয়।

 

মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ (২৮) এবং দেলদুয়ার উপজেলার বর্নী গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী মোস্তফা রাজীব হত্যা মামলায় আসামি নাজমুল ইসলাম মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ জুন খাগড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়ার কোটা নিয়ে নিহতের মায়ের সঙ্গে আসামি জিহাদের বিরোধ বাধে। ঢাবি ছাত্র রাজিব প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে চেপে ধরে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত জিহাদ ধারালো ছুরি দিয়ে রাজিবের পাঁজরে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় পরদিন ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজিব মারা যান। এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে জিহাদ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

অপরদিকে দেলদুয়ারে মা ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুইজনকে খালাস দেওয়া হয়। স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা এ রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার দক্ষিণ পাড়া গ্রামে হাজেরা বেগম (৬০) ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তার (২২) এবং ভাগনে মোস্তফা রাতের খাবার খেয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর মোস্তফা ফজরের নামাজ শেষে ঘরে এসে মা ও খালাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে পাট ক্ষেতের হাজেরা বেগম ও নাসরিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত হাজেরা বেগমের ছেলে মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের সাক্ষী গ্রহণ শেষে আদালত এ হত্যায় জড়িত থাকায় সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *