ঈদের ছুটিতে টাঙ্গাইলের বিনোদন ও দর্শনীয় স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড়

উৎসব টাঙ্গাইল সদর পরিবেশ বিনোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বিনোদন ও দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় দেখা গেছে। যমুনার মনোরম সৌন্দর্য, সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য ও যমুনা সেতু দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ছিল দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর।

 

ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার, ২৯ মে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যমুনা সেতু ও যমুনা পাড়ে ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। এবার ঈদে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ডিসি লেক, এসপি পার্ক, ঘারিন্দা রেলস্টেশনে সব বয়সী মানুষের ভীড় দেখা গেছে। এছাড়া, জেলার মহেড়া জমিদার বাড়ি, ২০১ গম্বুজ মসজিদে মানুষ ভিড় করছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যমুনা সেতু ও যমুনা পাড়ে ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। এছাড়া জেলার মহেড়া জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল ডিসি লেক ও এসপি পার্ক, ২০১ গম্বুজ মসজিদ, রেলস্টেশনে মানুষ ভিড় করছেন।

ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য যমুনা নদীর পাড় খুবই সুন্দর। বিশেষ করে সূর্যাস্ত দেখতে অন্যরকম লাগে। সব মিলিয়ে আমাদের অনেক ভালো লাগছে। ঘুরতে আসা শিশুরা জানায়, বাবা মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে তারা। ঘুরে খুব ভালো লাগছে। নৌকায় উঠে তাদের বেশি ভালো লেগেছে।

শহরের এসপি পার্কের দর্শনার্থী ইকবাল হোসেন বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাচ্চাকে বিভিন্ন রাইডে উঠিয়েছে। একই সঙ্গে আমরাও উপভোগ করছি। ঈদের দিন বের হতে পারেনি। ঈদের দ্বিতীয় দিন বের হয়েছি।

আরেক দর্শনার্থী মজনু মিয়া বলেন, ঈদের দিন কোরবানির জন্য বের হতে পারেনি। তাই আজকে বাবা মা ও স্ত্রী নিয়ে বের হয়েছি। শহরের বিভিন্নস্থানে ঘুরলাম। ঘুরে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। তবে আগের তুলনায় লোকজন কম।

কুটিরশিল্প মেলায় আসা দর্শনার্থী খাজিদা বলেন, স্বামী-সন্তান নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছে। মেলায় বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেলেকে দুই তিনটি রাইডে উঠিয়েছি। পাশাপাশি আমরাও ম্যাজিক বোট উঠেছি। আমাদের খুব ভালো লেগেছে।

যমুনা সেতু পূর্ব এলাকার গড়িলাবাড়ী এলাকার রুবেল মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে শত শত মানুষ সেতু এলাকায় বেড়াতে আসেন। তারা নৌকায় নদীতে ঘুরেন। এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। সব মিলিয়ে পরিবেশ উৎসবমুখর। আগত দর্শনার্থীদের দাবি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব স্পটগুলো সরকারি আয়ের উৎসে পরিণত হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি করছেন।

উল্লেখ্য, জেলার প্রকৃতি উপভোগ করতে মধুপুর বনাঞ্চল, মধুপুর বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামার, ধনবাড়ী নবাব বাড়ী, গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদ, হেমনগর জমিদারবাড়ী, ভূঞাপুর যমুনা নদী র্তীরবর্তী এলাকা, যমুনা সেতু এলাকা, যমুনা রিসোর্ট, নৌপথে গোবিন্দাসী থেকে গাবসারা চরাঞ্চল, কালিহাতীর চারান বিল, করটিয়া জমিদারবাড়ি, ঘাটাইলের ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ী, ঘাটাইল-ঝড়কা ও ধলাপাড়া পাহাড়ীসড়ক, ঘাটাইল শাপলা শিশু পার্ক ও সাগরদীঘি অনিক নগর পার্ক, সখীপুর বনাঞ্চল, বাসাইলের বাসুলিয়া বিল, নকিরবিল, মির্জাপুর মহেড়া জমিদারবাড়ী, দেলদুয়ার জমিদারবাড়ী, ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি, আতিয়া জামে মসজিদ, নাগরপুর জমিদার বাড়ী, উপেন্দ্র সরোবর, ধলেশ্বরী সেতু, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী, নাগরপুর ধুবুরিয়া স্বপ্ন বিলাস চিড়িয়াখানা, দাপনাজোর ওয়াটার গার্ডেন, বরুহা বুরো ট্রেনিং সেন্টার, ঘারিন্দা রেলস্টেশনগুলোতে দর্শনার্থীদের অনেক ভিড় দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *