
মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে বেতন ও ঈদ বোনাস না দিয়ে কারখানা বন্ধ করায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ দুপুরে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের উত্তর স্পিনিং মিলসের শ্রমিকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে মালিকপক্ষ বেতন-বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান, উত্তর স্পিনিং মিলসে গ্যাস–সংযোগ বন্ধ রয়েছে। সুতা উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ করা যায়নি। প্রায় তিন মাস ধরে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রেখে লে–অফ করে রাখা হয়েছে। লে–অফ বাতিল করে বৃহস্পতিবার চালুর কথা ছিল। আজ সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে আসেন। তবে তাঁরা কারখানার ফটকে তালা ও বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। তখন প্রায় ৩০০ শ্রমিক কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তা মেজর হাফিজ, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার পারভেজ ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বেতন-বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। অবরোধের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
মিলের শ্রমিক তাসলিমা আক্তার, শামসুন্নাহার, সহকারী প্রকৌশলী তুষার শীল বলেন, আজকে মিল চালুর কথা থাকলেও সকালে মিলের প্রধান ফটকে তালা এবং মিল বন্ধের নোটিশ দেখা যায়। এই সিদ্ধান্ত মিলের কোন শ্রমিক কর্মচারী আগে থেকে জানেন না। কর্তৃপক্ষ দুই মাসের বেতন ও বোনাস না দিয়ে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা হতবাক হয়েছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে উত্তর স্পিনিং মিলস লিমিটেডের কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জলী লাল মোদী ও প্রকল্প পরিচালক বিধান সরকারের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কল ধরেননি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেনা ক্যাম্পের মেজর হাফিজ, সেনা সদস্য ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা বেতন-বোনাস দিতে রাজি হয়। বিষয়টি শ্রমিকদের জানালে তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
