মির্জাপুরে রাব্বি হত্যার রহস্য উদঘাটন দীর্ঘ ৪ বছর পর: আসামি গ্রেফতার

অপরাধ আইন আদালত টাঙ্গাইল সদর মিডিয়া মির্জাপুর

মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে দীর্ঘ ৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর অটো চালক গোলাম রাব্বি (৪২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই), টাঙ্গাইল। পিবিআই এর পক্ষ হতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত চার বছর আগে বিগত ২০২১ সালের (২১ ডিসেম্বর) রাত অনুমান ৮ টা ৪০ মিনিটে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্ল্যা বাসস্ট্যান্ড হতে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি যাত্রীবেশে গোলাম রাব্বির অটোবাইকে উঠে। পরে ভাতগ্রাম পশ্চিমপাড়ায় অটো বাইকটি পৌঁছলে গোলাম রাব্বিকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে অটোবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। খোঁজাখোজিঁর এক পর্যায়ে, ভাতগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর বাড়ির পাশে ডোবায় কাঁদার উপর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

 

এ অভিযোগে প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের গত (২২ ডিসেম্বর) ধারা ৩৯৪/৩০২ পেনাল কোড মিজার্পুর থানার মামলা নং- ১৯ রুজু করা হয়। থানা পুলিশ এই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ হেডকোয়াটাস এর নির্দেশে ২০২২ সালের গত (৬ জুন) মামলার তদন্তভার পিবিআই টাঙ্গাইল এর উপর ন্যস্ত হয়।

পিবিআই জানায়, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং ক্লুলেস হওয়ায় অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর শাহিন আক্তার, ইন্সপেক্টর আসলাম হোসেন, এসআই রেজাউল করিম, এএসআই হুমায়ুন কবির ও সিপাহি মোস্তফাসহ একটি টিম এই মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৪ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই, টাঙ্গাইল। চারজন আসামির মধ্যে ইব্রাহিম হোসেন টুটুল (৩০) এবং রুবেল হোসেন (৩৫) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক গোলাম রাব্বিকে গলা কোটে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হতে জানা যায়, আসামী ইছা, জুবায়ের হোসেন পারভেজ এবং সজীব বিকাল বেলা অটো দিয়ে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে অটো গাড়ির চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলে, এক পর্যায়ে অটোচালক চিৎকার চেচামেচি করতে চাইলে আসামী ইছা, জুবায়ের হোসেন পারভেজ ও সজীব পরস্পর যোগসাজসে গলা কেটে হত্যা করে।

ইব্রাহিম হোসেন টুটুলের জবানবন্দিতে উল্লিখিত আসামী জুবায়ের হোসেন পারভেজকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজে নেমে পড়ে টাঙ্গাইল পিবিআই । চলতি বছরের গত (১৩ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলা বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের জনৈক কালাম দালালের বাড়ি থেকে জুবায়ের হোসেন পারভেজকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই, টাঙ্গাইল অফিসে হাজির করা হয়। আসামী জুবায়ের হোসেন পারভেজ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত দিয়েছে।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই টাঙ্গাইলে তদন্তাধীন সর্বমোট ৬টি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটিত হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকতারা আশা প্রকাশ করছেন। এ অবস্থায় আলামত উদ্ধারসহ পলাতক অন্যান্য আসামী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আরো বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পিবিআই টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের নৃশংস ক্লুলেস হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লিখিত আসামীরা গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সন্তোষ বিরাজ করছে। পিবিআই, টাঙ্গাইল জেলার কর্মতৎপরতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *