
নাগরপুর প্রতিনিধি: নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ির একই আঙিনায় মসজিদ-ঈদগাহ মাঠ ও মন্দিরে ৫৬ বছর ধরে চলছে নামাজ ও পূজা। প্রতিবছরের মতো এবারো চৌধুরী বাড়ি এলাকায় মসজিদের পাশেই মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশে মসজিদে আজান ও নামাজের সময় বন্ধ থাকছে দুর্গাপূজার ঢাক-ঢোলের বাজনা। উভয় ধর্মের লোকজনই নিজ-নিজ ধর্মীয় আচার ও নিয়ম পালন করে আসছেন শান্তিপূর্ণভাবে।
নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ির আঙিনায় এ অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের দেখা মেলে। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এটি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতাও করা হচ্ছে।
জানা যায়, নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে ৯২ বছর আগে ১৯৩২ সালের সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় উঝা ঠাকুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে এখানে চৌধুরী বাড়ি ক্লাব স্থাপিত হয়। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয় দুর্গাপূজা। মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪০ বছর পর ১৯৭২ সালে একই আঙিনায় নির্মাণ করা হয় নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। এরপর থেকে ৫৬ বছর ধরে একই আঙিনায় চলছে নামাজ ও পূজা। এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মন্দিরে চলছে পূজা-অর্চনা, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাজনা। দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে এবং পূজায় অংশ নিতে আসছেন। এরমধ্যে নির্ধারিত সময়ে আজান শুরু হওয়ার আগেই ঢাকঢোল, মাইক ও বক্সের বাজনা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। নামাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার বেজে উঠছে মন্দিরের ঢাকঢোলের বাজনা। একই স্থানে মসজিদ আর মন্দির নিয়ে কখনো কারো সমস্যা হয়নি।
স্থানীয় পূজারীরা জানান, ৫৬ বছর ধেরে এখানে পূজা করছি। পাশে মসজিদ ও মন্দির হলেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। মুসলিম ধর্মের মানুষ আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। আমরাও নামাজ ও আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখি। যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। হিন্দু-মুসলিম আমরা ভাই ভাই। কোনোদিন দুই ধর্মের মানুষদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে আশা করি ঘটবে না।
মুসল্লি আবুল কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই আঙিনায় মসজিদ আর মন্দির। আমাদের নামাজের সময় কোনো সমস্যা হয় না। নামাজের সময় তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।
মসজিদের ইমাম বলেন, মসজিদের পাশেই ঈদগাহ ময়দান। তার পাশেই মন্দির রয়েছে। প্রতিবছরই এ মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দূর্গাপূজার সময় এখানে লোক সমাগম প্রচুর হয়। নাজামের সময় তারা পূজার কার্যক্রম বন্ধ রাখছে। আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি। এখন পর্যন্ত সব কিছুই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
চৌধুরী বাড়ি ক্লাবের সভাপতি লিটন পোদ্দার বলেন, আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে অঅজ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা তাদের কাছ থেকে নামাজের সময়সূচি নিয়ে ওই অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চালাই। মসজিদ কমিটি পূজার ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এর একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চৌধুরী বাড়ি। একই প্রান্তে মসজিদ ও মন্দির। বিগত বছরের মতো এ বছরো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাভলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে এসেছে। আমরা হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে মিশে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। শুধু পূজা নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রেও আমরা একমত পোষণ করে কাজ করে যাচ্ছি। এই বন্ধন আমাদের অটুট থাকবে।
