
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে এবং দেশব্যাপী মিষ্টির আরও প্রসার ঘটাতে প্রথমবারের মতো তিনদিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিনদিনের এ ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মেলা চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়িরও প্রদর্শন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ সুইট ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন। এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমরা টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তাঁতের শাড়ি তুলে ধরতে চাই। এই পণ্য দুটি আমরা কীভাবে বাড়াতে পারি, কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি এ ব্যাপারে সার্বিক পদক্ষেপ নিবো।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক। বিশেষ অতিথি জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মিষ্টি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির পাশাপাশি জেলার বিখ্যাত তাঁতের শাড়িকেও এ উৎসবের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে দেশব্যাপী পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুইট ফেস্টিভ্যাল মিষ্টি ও তাঁতশিল্পের সমন্বয়ে টাঙ্গাইলের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় শিল্পকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন জেলার পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১২টি উপজেলা থেকে ২১টি মিষ্টির স্টল এবং ২টি তাঁতের শাড়ির স্টল এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। স্টলগুলোতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী উৎসবে এসে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও তাঁতের শাড়ি দেখছেন এবং পছন্দের পণ্য কিনছেন।
পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মিষ্টির কারিগর, তাঁতশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ উৎসবের প্রধান লক্ষ্য তিনটি। প্রথমত, ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তুলে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা। দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তৃতীয়ত, স্থানীয় পণ্য প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত টাঙ্গাইলের শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রসারে এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানায়, প্রথম বারের মতো এমন আয়োজন প্রশংসনীয়। পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে এসেছি। মিষ্টির পাশাপাশি টাঙ্গাইল শাড়িরও প্রদর্শন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের ভালো লেগেছে।
ক্রেতা মরিয়ম আক্তার বলেন, আয়োজনটি খুবই ভালো। এখানে অনেক ধরনের মিষ্টি রয়েছে। অনেক মিষ্টি খেয়েছিও, খুব ভালো লেগেছে। প্রতিবছর এমন আয়োজনের দাবি করছি।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিক্রেতারা বলেন, নানা ধরনের মিষ্টি নিয়ে এসেছি। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ। প্রথমদিন থেকেই সাড়া ভালোই পাচ্ছি। প্রতি বছরই এমন আয়োজনের দাবি করছি।
জেলা মিষ্টি মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ির চমচম ঐতিহ্য তুলে ধরতে পেরেছি। এতে আমরা আনন্দিত। প্রতিবছরই এমন আয়োজন করা হলে এর কদর আরও ছড়িয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শতবর্ষের মিষ্টি শিল্পটি সবার সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি জিআই পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং করা। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার প্লাটফর্ম হিসেবেও ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’ এর আয়োজন। স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হবে।
