মধুপুরে শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

অপরাধ দুর্নীতি মধুপুর মিডিয়া

মধুপুর প্রতিনিধি: মধুপুর উপজেলার শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নু তালুকদারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার, ১৫ মে বিকেলে মধুপুর পৌরসভার মরহুম মেয়র সরকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিলি সরকার মধুপুর পৌরশহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে মরহুম সরকার শহিদের ছেলে আহাদুল ইসলাম আদিত্য সরকারও বক্তব্য দেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিলি সরকার বলেন, মধুপুর পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র আমার স্বামী সরকার সহিদ মারা যাওয়ার পর হতেই আমাদের সম্পত্তির ওপর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কৃদৃষ্টি পড়ে। তারা মধুপুর পৌরশহরের মধুপুর মৌজার বাসাবাড়ি মার্কেট এলাকায় আমাদের জমির জাল কাগজপত্র তৈরি করে দখলের পায়তারা চালায়। ইতোমধ্যেই তারা সরকার শহিদের বড় ভাই নুরুল ইসলাম রাজের স্ত্রী খোদেজা রাজের নিকট থেকে জমি কিনে দখল বুঝে নেয়। এরমাঝে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান বণিক সমিতির নামে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জায়গা বুঝে নেওয়ার সময় আমাদের জায়গাসহ তারা বেদখল দেওয়ার চেষ্টা করে।

গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে বাসাবাড়ি মার্কেটে আমাদের জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে আমার ছেলে বাড়ীতে ছিল না। সে ঢাকায় থাকার কারনে আমি নিজেই বাধা দেই। এ সময় মিনজুর রহমান নান্নু আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি বাধা দেওয়ায় তারা তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

লিলি সরকার আরও অভিযোগ করেন, আমার স্বামীর বড় ভাই প্রয়াত নুরুল ইসলাম রাজ-এর স্ত্রী খোদেজা রাজ ১২.৪০ শতাংশ জমির মালিক। খোদেজা রাজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের নিকট ১৫.৭৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির ৮ শতাংশ রয়েছে। এছাড়াও জায়গার ভোগকারিদের সুবিধার জন্য আমাদের নিজস্ব জায়গার মধ্য দিয়ে রাস্তা দেওয়া হয়েছে। ফারায়েজের হিসাবান্তে মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি মাত্র ৪.৬৬ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনজুর রহমান নান্নু রাস্তায় ব্যবহৃত জায়গা, ফারায়েজ অনুসারে আমাদের অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই সে পুরো ৮শতাংশ দখলে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন। এই নিয়েই বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এমনকি মিনজুর রহমান নান্নু আমাদের সিনথিয়া হোটেলসহ আমাদের বাড়ি বেদখল করারও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন লিলি সরকার।

এ সময় সাংবাদকিদের প্রশ্নের জবাবে আহাদুল ইসলাম আদিত্য সরকার বলেন, আমি কাউকে হুমকি দেইনি। আমি ঢাকায় থেকে যখন শুনেছি আমার মার সাথে বণিক সমিতির সেক্রেটারি দুর্বব্যবহার করেছেন। কেন তিনি দুর্বব্যবহার করলেন, তাই জানতে বণিক সমিতির অফিসে গিয়েছিলাম। তাকে অফিসে না পেয়ে ফিরে এসেছি।

লিলি সরকার সাংবাদিকদের জানান, ১৪ মে সকালে নান্নু আমার ছেলে আদিত্য সরকারের নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ১০ লাখ টাকা দিলে তিনি ৮ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ বাদ রেখে ভবন নির্মান করবেন। আমার ছেলে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা দলবল নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের জমি দখল দিতে যায়। আমাদের এই জমির সকল কাগজপত্র আমাদের নামেই বিদ্যমান। ওই ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী শাসনামলে জাল কাগজ তৈরি করে জমি দখলের পায়তারা করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ মিনজুর রহমান নান্নু বলেন, আমরা জমি কেনার ভূমি অফিসের মাধ্যমে খারিজ করে আমাদের জায়গা ভোগ দখলে নিয়েছি। যখন আমরা নির্মাণ কাজ শুরু করেছি তখনই তিনি আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছেন। খোদেজা রাজের নিকট থেকে কেনা জায়গা বেদখল দেওয়ার জন্য লিলি সরকার ও আদিত্য সরকার পায়াতরা করে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *