বহেড়াতৈল বিটের এফজি আবু সাঈদের পাহারায় উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত শালবন

অপরাধ আইন আদালত দুর্নীতি পরিবেশ সখিপুর

সখীপুর প্রতিনিধি: সখিপুরের আন্দী রেঞ্জের বহেড়াতৈল বিট এলাকায় সংরক্ষিত প্রাকৃতিক শালবনে নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি ও কাষ্ঠাল গাছ কেটে লাকড়ি হিসেবে পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় সরবরাহ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক শাল বনে জন্ম নেওয়া কড়ই, বহেড়া, আমলকি, গন্ধকাঠাল, বান্দর লাঠিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। এসব গাছ কেটে লড়িতে করে প্রকাশ্য দিবালোকে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এর বাস্তব চিত্র সামনে আসে। বহেড়াতৈল বিট এলাকার পাকা সড়ক দিয়ে ইটভাটাগামী লাকড়ি বোঝাই একটি লড়ি যেতে দেখা যায়। তখন দায়িত্বরত বন প্রহরী (এফজি) আবু সাঈদের সামনে লড়িটি থামিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাজ বনের ভেতরে। বনের গাছ কেউ কেটে রাস্তায় নিয়ে এলে তার দায়িত্ব বিট কর্মকর্তার।”

একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মী হয়েও কেন তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না- এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কাঠচোর চক্রের লোকজনকে ডেকে এনে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরারও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাঠ বোঝাই লড়িটি দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আন্দী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে বন প্রহরী আবু সাঈদ এতে জড়িত, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে এভাবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা যদি কাঠচোরদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে প্রাকৃতিক শাল বন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *