টাঙ্গাইলে তীব্র শীত: বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

টাঙ্গাইল সদর দুর্ঘটনা পরিবেশ স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশের মতোই টাঙ্গাইল জেলার সর্বত্র টানা তীব্র শীতের কবলে পড়ে কাঁপছে। কোথাও কোথাও ২/৩ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলে না। সাধারণত অন্যান্য বছর কিছুদিন শীত পড়ে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর জেঁকে বসা শীত কোনভাবেই কমছে না। উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের কনকনে হাওয়া জনজীবন স্থবির করে ফেলেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে শীতকালীন রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

 

এছাড়া, ঠান্ডাজনিত নানা রোগব্যাধিতে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে সর্দি, কাশি ও হাঁপানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মজুর পরিবারের মধ্য বয়সী ও বৃদ্ধরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বেশি ভুগছে শিশু। ডায়রিয়ায় গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এরপরই রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, জ্বরসহ নানা রোগব্যাধি।

শীতকালে বাতাসের আদ্রতার পরিবর্তন ঘটে। বাতাসে ধুলোবালি বেশি থাকায় শীতকালে এসব রোগ বেশি হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি এবং শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রভাব বাড়ে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস। বিশেষ করে রোটা ভাইরাসের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্তের হার বেড়েছে। শীতে এসব রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে তারা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালের তথ্য থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগ, জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, জ্বরসহ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৩ জন। গত ১০ দিনে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শীতকালীন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতি বছর (১ নভেম্বর) থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতকালীন রোগের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এবার (১ নভেম্বর) থেকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে একক রোগ হিসেবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। এরপরই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের শিকার হয়েছে মানুষ।

এছাড়া জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, জ্বরসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তালিকায় দেখা যায়, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তবে বিগত বছরগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করলে দেখা যায়, নভেম্বর থেকে শীতকালীন রোগের প্রকোপ শুরু হয়। ডিসেম্বরে রোগী বেশি হয়। তবে এ বছর শীতের ব্যপ্তি অনেক বেশি। তাই এর প্রভাব এখনও পড়ছে। মার্চে গরম শুরু হলে তখন এসব রোগের প্রকোপ কমে যেতে পারে বলে জানান। প্রতিবছর শীতের এই সময়ে ডায়রিয়ায় মানুষ অধিকহারে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই হার বেশি। রোটা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তবে প্রতিবছর শীতকাল খুব একটা দীর্ঘ না হওয়ায় কিছুদিন রোগী বেড়ে শেষে হয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যেতো। এ বছর দীর্ঘদিন ধরে শীত চলায় রোগীর চাপ কমছে না।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, শীতের কারণে মানুষের সাধারণ সর্দি-কাশি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়াসহ কিছু ভাইরাসজনিত রোগ-ব্যাধির প্রকোপ দেখা যায়। বাতাসের আদ্রতার পরিবর্তনসহ বাতাসে ধুলোবালি বেশি থাকায় শীতকালে এসব রোগ বেশি হয়। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি এবং শিশুদের নিউমোনিয়া হতে পারে। এসব রোগ থেকে রক্ষা পেতে যতটা সম্ভব ধূলিকণা এড়িয়ে চলতে হবে। এজন্য মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে রোটা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। কারণ শীতকালে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনেকে বিশুদ্ধ পানি পায় না। তাই পানিকে নির্দিষ্ট মাত্রায় ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। তাহলে এসব রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *