
আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: গোপালপুর উপজেলার কৃষি উন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় একজন মাঠ ঘনিষ্ঠ, পরিশ্রমী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি অফিসার শামীমা আক্তারের নাম দীর্ঘদিন ধরেই কৃষক সমাজে পরিচিত।
জানা যায়, ২০২২ খ্রি. ৩০ জানুয়ারি তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কাগুজে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে বাস্তব মাঠপর্যায়ের চাষাবাদ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে আউশ ধানের আবাদ যেখানে একসময় মাত্র ৩৫ হেক্টরে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ সরবরাহ ও আধুনিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৩ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে, যা উপজেলায় খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অর্জন হিসেবে কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের কাছেই স্বীকৃত।
একইভাবে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে মাচায় সবজি চাষ চালু করে তিনি অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনেছেন। ফলে একদিকে পতিত জমি কাজে লাগছে অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে সবজি সরবরাহ ও পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে। পুকুর পাড়ে মাচায় সবজি চাষ, রাস্তার পাশের জমিতে মাসকলাই, ছায়াযুক্ত পতিত জায়গায় বস্তায় আদা চাষের মতো উদ্যোগ কৃষকদের নতুন নতুন আয়ের পথ দেখিয়েছে এবং ঝুঁকি কমিয়ে লাভজনক কৃষির দিকে উদ্বুদ্ধ করেছে।
কেঁচো সার উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব সার সরকারি প্রকল্পের প্রদর্শনীতে ক্রয়ের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগানে নারীদের সম্পৃক্তকরণ এসব কার্যক্রম শামীমা আক্তারের কাজকে শুধু উৎপাদনকেন্দ্রিক নয়, বরং সামাজিক ও পুষ্টিকেন্দ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ১০ একর সরকারি খাস জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ যা এককভাবে বৃহত্তম সূর্যমুখী বাগান ছিল।
জেলার গোপালপুর উপজেলা সরিষা উৎপাদনে অন্যতম উপজেলা। ২০২১ -২২ অর্থবছরে সরিষার চাষাবাদ ৪০৪৩ হেক্টর জমিতে হলেও তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬০১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। তেলজাতীয় ফসল বিশেষ করে সরিষা, চিনাবাদাম ও সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি, ধান, মিষ্টি আলু, রঙিন ফুলকপিসহ আধুনিক জাতের মাঠ ফসলের সম্প্রসারণ এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার, পাওয়ার থ্রেসার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ মাঠে দৃশ্যমান।
খাস জমিতে সূর্যমুখী চাষ, পুকুর পাড়ে মাচায় সবজি, রাস্তার ধারে সবজি ক্ষেত, আউশ ধানের মাঠ, বস্তায় আদা চাষ এসব উদাহরণ আজ গোপালপুরে বাস্তবে দেখা যায় এবং কৃষকদের বড় একটি অংশ এই কার্যক্রম থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিতরণকৃত ২৪টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কৃষকরা যথাযথই পেয়েছেন।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাশেম, আলম নগর গ্রামের কৃষক বাছেদ, নন্দনপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সফিকুল হক, আজগরা গ্রামের হাফিজুর রহমান, পলশিয়া গ্রামের মোঃ শাহআলমসহ অন্যরা বলেন, আমরা ২৪জন কৃষক নিয়মমাফিক কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন পেয়েছি। তাছাড়া, মেইজ শেলার ও পাওয়ার থ্রেসার মেশিন ও যথানিয়মে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বহু কৃষক জানান, তারা নিজেরাই বিভিন্ন প্রণোদনা, বীজ, সার ও পরামর্শ পেয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বাস্তব চিত্র হলো শামীমা আক্তারের নেতৃত্বে কৃষি বিভাগ মাঠে কাজ করছে, কৃষক নতুন প্রযুক্তি ও ফসলে আগ্রহী হচ্ছে, অনাবাদি জমি আবাদে আসছে এবং পুষ্টি ও আয় দুটোই বাড়ছে।
