টাঙ্গাইলের হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট

টাঙ্গাইল সদর দুর্ঘটনা পরিবেশ স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি কোন হাসপাতালে মিলছে না এই ভ্যাকসিন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন বিভিন্ন স্থান থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টাঙ্গাইলের হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসলেও টিকা না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে। আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকা কিনছেন।

 

টাঙ্গাইল পৌরসভার ধূলেরচর এলাকার নির্মাণ শ্রমিক জামিল মিয়া তার ভাগ্নের জন্য জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনের কালিহাতী, বাসাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও পাননি। পরে তিনি ১৬০০ টাকা খরচ করে ঢাকার শাহবাগ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। জামিল মিয়া আরো বলেন, আমি সরকারি হাসপাতালে কয়েক দিন ঘুরে ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজারো মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ঝুঁকিতে দিন পার করছেন। অনেকেই আবার বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে কিংবা দালালের মাধ্যমে ওষুধের দোকান থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছেন।

জুলেখা রায়হান নামের এক নারী বলেন, কয়েক মাস ধরে টাঙ্গাইলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ঘুরেও আমার মতো অনেকেই ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। আমাদের অনেকের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ী ও দালালরা ৫০০ টাকার ভ্যাকসিন ১৮০০ টাকায় বিক্রি করছে। ভোক্তা অধিকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করি।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, শুক্রবারসহ প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আড়াই থেকে ৪০০’র মতো রোগী ভ্যাকসিন নিতে আসেন। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া ভ্যাকসিন প্রথম সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে ১৫০০ ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন করা হয়, কিন্তু আজও মিলেনি।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, সারাদেশেই ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। বছরে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৮০ হাজার ভ্যাকসিনের চাহিদা থাকলেও দুই মাস যাবত সরবরাহ নেই। সর্বশেষ চাহিদার ১৬ হাজার ভ্যাকসিন বরাদ্দ পেলে হাসপাতালগুলোতে দ্রুত সরবরাহ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *