টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৩ দালাল আটক

অপরাধ আইন আদালত টাঙ্গাইল সদর দুর্নীতি স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযানে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, হয়রানি এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রিজওয়ান সিদ্দিকীর নির্দেশনায় এবং টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও টাঙ্গাইল সদর থানার যৌথ উদ্যোগে হাসপাতালের প্রবেশপথ, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘবদ্ধ দালাল চক্রটি হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার নাম করে নির্দিষ্ট বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে পাওয়া চিকিৎসার পরিবর্তে রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বাধ্য করা হতো। এ ছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাৎ, শয্যা পাইয়ে দেওয়া কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

বিশেষ অভিযানে আটক ১৩ জনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে উপস্থাপন করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় প্রত্যেককে সর্বনিম্ন ১০ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল এলাকায় দালাল, প্রতারক ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রিজওয়ান সিদ্দিকী জানান, চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেবা গ্রহণে এসে কোনো রোগী বা তাঁর স্বজন যেন দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের এই তৎপরতা চলমান থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *