মির্জাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

অপরাধ আইন আদালত দুর্নীতি প্রতিষ্ঠান মির্জাপুর

মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের ৭ সদস্য।

 

সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের তথ্য উল্লেখ করে তাকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

 

মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী সদস্যরা হলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মজিবর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লিটন হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলাউদ্দিন, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিউলি আক্তার এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিনা আক্তার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গোড়াই ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর গোপালপুর উপজেলার কলেজছাত্র ইমন হত্যা মামলার আসামি হন। এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আদিল খানও একাধিক মামলার আসামি। এরপর থেকে দুজনেই পলাতক রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে একই বছরের ১ ডিসেম্বর দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের প্রকল্প, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, উন্নয়ন সহায়তা, রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, বার্ষিক বাজেটের ১ শতাংশ প্রকল্প ও হাটবাজারের রাস্তা নির্মাণসহ ৩১ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।

আরও দাবি করা হয়, তিনি সব ক্ষেত্রেই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। পরিষদের সদস্যরা মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবং অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টনের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

গোড়াই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, “ডিসি অফিসে একসঙ্গে সাতজন মেম্বার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের ঠকানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।”

গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যে প্রকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। তবে রেজুলেশন করা হয়েছে। এছাড়া মেম্বাররা অনেক প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়েছি। ডিসি স্যারের নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *