
সখীপুর প্রতিনিধি: সখিপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আকবর মিয়া (৫৫) এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তক্তারচালা নতুন বাজারে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, যা ইতোমধ্যেই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রূপ নিয়েছে। তিনি উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের পাটজাগ গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
মৃতের ছোট ভাই হামিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত না থাকলেও দোকানের ম্যানেজার ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে জানতে পারেন, স্থানীয় যুবক রাশেদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে রাশেদ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলার একপর্যায়ে রাশেদের বাবা নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে আকবর মিয়াকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এর কিছু সময় পরই, একই দিন (১৭ মার্চ) আকবর মিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে, যা পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
দোকানের ম্যানেজার ইয়াকুব আলী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি শুরু থেকেই এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং কৌশলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তার এই অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আচরণ পুরো ঘটনাকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে এবং তার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পরিবারের দাবি, আকবর মিয়ার কপাল ও নাকে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যা স্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব আলামতের ভিত্তিতে তারা একে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন। ঘটনার বিষয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা মুখ খুলতে অনীহা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই সখিপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাশেদ ও তার বাবা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে জানিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
