ঘাটাইলের আসাদুজ্জামান ‘আমার খামার’ দিয়ে স্বাবলম্বী, সফল উদ্যোক্তা

অর্থনীতি কৃষি ঘাটাইল

ঘাটাইল প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আসাদুজ্জামান। মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা আক্তার, বাবা প্রয়াত দেওয়ান আলাউদ্দিন। কিন্তু আসাদুজ্জামানের পরিচয় আজ একজন সফল স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা হিসেবে। টিউশনির টাকায় শুরু হওয়া আসাদুজ্জামানের ‘আমার খামার’ এখন যেন সবার খামার বানিয়ে হয়েছেন স্বাবলম্বী।

 

আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ার সময় থেকেই আসাদুজ্জামানের চিন্তা ছিল নিজে কিছু করতে হবে। পকেটে টাকা নেই, তবু জেদ থেকেই শুরু হলো হাড়ভাঙা খাটুনি। একদিকে পড়াশোনা, অন্যদিকে টিউশনি ও ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানে চাকরি। অর্থ জমিয়ে দুই লাখ টাকা যখন হাতে এল, তখনই তিনি নামলেন জীবনের পরীক্ষায়।

২০১৮ সালে নিজের গ্রামে মাত্র এক হাজার ব্রয়লার মুরগি আর ছোট একটি পুকুরে মাছ চাষ দিয়ে আসাদুজ্জামানের যাত্রা শুরু। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল আরও বড়। তিনি চাইলেন এমন জায়গায় খামার করতে, যেখান থেকে ঢাকা খুব কাছে। বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে বেছে নিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা। ২০২২ সালে ১৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু হলো ‘আমার খামার’। বন্ধু সাব্বির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ১ হাজার ২০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ সেখানে ২৫ হাজার মুরগি। প্রতিদিন ২৫ হাজার ডিম তাঁর নিজস্ব পরিবহনে পৌঁছে যায় ঢাকার বড় বড় আড়ত ও দোকানে।

আসাদুজ্জামান এরপর কলা ও পেপের খামার করেন। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন শোভা পাচ্ছে ১ হাজার ৮০০ পেঁপেগাছ আর সাড়ে চার হাজার সাগর কলার বাগান। চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে তাঁর মৌসুমি ফসলের প্রকল্প। বর্তমানে ৩২ কর্মী দিনরাত খাটছেন এই খামারে।

আসাদুজ্জামান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট ফার্মিং চালু করেছেন। ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা এখন ফসলের রোগবালাই বা বাজারদর সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সমাধান পাচ্ছেন। শুধু তা–ই নয়, ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ কৃষককে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি চালু করেছেন কৃষকের সন্তানের জন্য শিক্ষাবৃত্তি।

ঘাটাইলের সেই সবুজ খামারে দাঁড়িয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৬ সাল নাগাদ তিনি চালু করতে যাচ্ছেন ‘আমার খামার গ্রামীণ অ্যাগ্রি রিসোর্ট’। এটি কেবল বিলাসী কোনো অবকাশকেন্দ্র হবে না, এটি হবে এমন এক জায়গা, যেখানে শহরের মানুষ এসে নিজ হাতে কৃষিকাজ দেখবে, মাটির ঘ্রাণ নেবে এবং প্রকৃতির সঙ্গে গড়ে তুলবে এক আত্মিক সম্পর্ক।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখলেই আমাদের ভবিষ্যৎ টেকসই হবে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে আমার খামার বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ কৃষককে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সম্প্রতি কৃষকদের ছেলেমেয়ের জন্য আমরা শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *