
সখিপুর প্রতিনিধি: সখিপুর উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী সাদিয়া আক্তারের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ৯ জুন ২০২৫ খ্রি. বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি অবৈধ ও দুর্বল কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে সাদিয়ার মৃত্যু হলেও আজো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি। নিহতের পরিবার আজো কোন সুবিচার পায়নি।
নিহত সাদিয়া আক্তার (১১) ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সে পাটজাগ গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। তাদের বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা জালাল উদ্দিনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় চত্বরে ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ঈদের সাত দিন আগে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঐদিন বিকেলে সাদিয়া, আমেনা ও নেহা ওই স্কুল মাঠে খেলছিল। সন্ধ্যার আগে ওই তিনজন নির্মাণাধীন স্থাপনার ওপর ওঠে। একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়লে সাদিয়া ঘটনাস্থলে নিহত হয়। আমেনা ও নেহা সামান্য আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ভেতরে একটি নিম্নমানের ম্যুরাল নির্মাণ করেন, যা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রীর মাধ্যমে নির্মিত এই কাঠামো ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিহত ছাত্রীর বাবা-মাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের জানান, ‘এটা নিছক একটি দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত।’
