
বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ১৯ বছর ধরে ঝুলে আছে। শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়ায় ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি এ হাসপাতালটি। অপারেশন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এখানে সেই সেবা মিলছে না।
জানা যায়, ১১২ বছরের পুরাতন থানা বাসাইল। সারাদেশের মতো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরের গেজেট হলে ২০০৬ সালে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা কনস্ট্রাকশন এখানে ভবন নির্মাণের কাজ পায়। প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর সরকারের সাথে নানা টানপোড়েনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে পড়ে নির্মাণকাজ। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি জানান, ‘এক কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিল এবং দরপত্র অনুযায়ী আরও ৬০ লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধ না করায় আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি।’
সর্বশেষ ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় ১৯ বছর ধরে থমকে আছে এ উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা হয়। অথচ সামান্য কাঁটাছেঁড়ার জন্য রোগীকে টাঙ্গাইল শহরের হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয় রোগীর স্বজনরা জানায়, বাসাইল হাসপাতালে ২৭ জন ডাক্তারের পোস্ট থাকলেও তাদের বসার মতো জায়গা নেই। এক রুমে গাদাগাদি করে বসে ব্যবস্থাপত্র দিতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের কোনো গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসী বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা। দেশের সবগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করলেও বাসাইলে তা সম্ভব হচ্ছে না। ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি সবই আছে, নেই শুধু অবকাঠামো। এ সমস্যার দ্রুতই সমাধান চায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত বাসাইলবাসী।
এ বিষয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. আতিকুর রহমান জানান, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব তার চেয়ে বেশিই এই এলাকার মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নতুন ভবন থাকলে হয়তো আরো ভালো চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হতো।
বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শার্লি হামিদ বলেন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর বিষয়টি জানিয়ে প্রতি তিন মাস পরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এ কারণে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাকি কাজের জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করবো। এটা পরবর্তী কার্য পরিকল্পনায় রয়েছে।’
