আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

জাতীয় টাঙ্গাইল সদর নির্বাচন রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

 

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন। এর আগে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশেষ বর্ধিত সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে বা বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমগ্র দেশবাসীর প্রত্যাশা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সার্বিকভাবে সবাইকে নিয়ে একটি নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং বিগত সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে দেশ আরও খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখনো অনেককে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করা যায় না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তেমন কোনো উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাই তথাকথিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ অংশগ্রহণ করবে না।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। কিন্তু বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমরা মনে করছি যে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করা সম্ভব হবে না। যে সব জায়গা থেকে অস্ত্র খোয়া গেছে, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা হয়নি। প্রার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ধরনের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে আশা করা যায়? আমাদের ধারণা অনুযায়ী, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। একটি নির্বাচনের জন্য যে মাঠ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন, সে ধরনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ কারণেই আমরা নির্বাচনের বাইরে থাকতে চাই।

এতে আরও বলা হয়, গত তিন-তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে না হয়ে পাতানো রূপ নেওয়ায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ’২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের পতন ঘটায়। দেশবাসীর প্রত্যাশা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সার্বিকভাবে সবাইকে নিয়ে একটি নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি করতে পারেনি; বরং বিগত সরকারের আমলে যা হয়েছে তার চেয়ে খারাপভাবে দেশ চলছে।

মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং নির্বাচনের সময় সরকারিভাবে অস্ত্রের অনুমোদন দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *