
মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে গোড়াই ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে লৌহজং নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পাড়ে ভাঙন ধরায় আতঙ্কে দিন পার করছে নদীপাড়ের মানুষ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এক মাস ধরে প্রকাশ্যে বালু তুলে বিক্রি করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জানা গেছে, মির্জাপুর গোড়াই ইউনিয়ন (পশ্চিম) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল মিয়া লৌহজং নদীর কলিমাজানি এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এতে পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে নদীপাড়ের বাড়ির মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন।
একই কারণে দক্ষিণ মির্জাপুরে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন কলিমাজানি সেতুটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। তবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সহজে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন না। তার বাবা গোড়াই ইউনিয়ন (পশ্চিম) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
এদিকে প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
কলিমাজানি গ্রামের রোজিনা আক্তার বলেন, আমার ভাইয়ের বাড়ির উত্তরপাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো ভাইয়ের বাড়ি নদীতে ভেঙে যাবে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, রুবেল মিয়ার নানার বাড়ি উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামে। ওই গ্রামের একাব্বর হোসেন টানা চারবার এমপি ছিলেন। তাদের প্রভাবে প্রতিবছর নদী থেকে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করেছেন রুবেল ও তার ভাই। এখনো তাদের একই অবস্থা চলছে।
অভিযুক্ত রুবেল মিয়া বলেন, তার ড্রেজার দিয়ে স্থানীয় ফরিদ মিয়া মাটি তুলছেন। মসজিদ নির্মাণ করা হবে এজন্য জমি ভরাট এবং কবরস্থানের জায়গা ভরাট করা হবে।
কলিমাজানি গ্রামের রবিউল ও জসিমের বাড়ি বালু দিয়ে ভরাট করেছে কে- জানতে চাইলে বলেন, আমরাই করেছি।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রেজা বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
