
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে সাহিত্যপ্রেমীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী কবিতা উৎসব শুরু হয়েছে।
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল শহরের টাঙ্গাইল ক্লাবের মিলনায়তনে শুরু হওয়া এই উৎসবটি আগামীকাল শনিবার, ২৫ এপ্রিল শেষ হবে। এই উৎসবের আয়োজন করেছে ‘সময়ের সাহিত্য কণ্ঠ পরিবার’।
উৎসবের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাহিত্য একটি জাতির মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কবিতা আমাদের মানবিকতা ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করে ষাটের দশকের অন্যতম কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুব বলেন, নতুন প্রজন্মকে কবিতার প্রতি আগ্রহী করতে এ ধরনের উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবিতা মানুষের আত্মার কথা বলে।
প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সত্তর দশকের অন্যতম কবি মাহমুদ কামাল। বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষক ও প্রাবন্ধিক খান মাহবুব বলেন, টাঙ্গাইলের সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। এই ধারাকে ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কবিতা আমাদের চিন্তা-চেতনাকে শাণিত করে এবং সমাজকে আলোকিত করার শক্তি রাখে। টাঙ্গাইলকে আধুনিক সংস্কৃতি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
উৎসবে বিশিষ্ট লেখক ও অর্থনীতিবিদ ড. ইউসুফ খান বলেন, সাহিত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের দর্পণ। কবিতার মাধ্যমে আমরা সময়ের বাস্তবতা, মানুষের অনুভূতি ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
ব্যাংকার ও সমাজসেবক আবুল কাশেম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বইমুখী করতে হলে এমন সৃজনশীল আয়োজনের বিকল্প নেই। প্রযুক্তির এই যুগে সাহিত্যচর্চা ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির (এফপিএবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হারুন অর রশীদ বলেন, মাতৃভাষা ও সাহিত্যকে সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। এই উৎসব সেই প্রচেষ্টারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশনের সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু বলেন, টাঙ্গাইলের মাটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য উর্বর। এখান থেকে অনেক গুণী কবি-সাহিত্যিক উঠে এসেছেন, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
সময়ের সাহিত্যকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক কবি আযাদ কামাল বলেন, কবিতা মানুষের ভেতরের নীরব কথাগুলো প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। এই উৎসব নতুন ও পুরাতন কবিদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এই উৎসব আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত করতে পারব।
দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসির। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীরা। আবৃত্তি, কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আলোচনা দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কবিবৃন্দ স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।
