শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু!

অপরাধ টাঙ্গাইল সদর দুর্ঘটনা শিক্ষা শোক সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার, ১০ মার্চ সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সাবালিয়া শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থী মুহিদুল ইসলাম লামিত ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের সুহেল রানার ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং ও ক্লাস চালু রাখা এবং শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করেই স্কুল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় লামিত। গুরুতর আহতাবস্থায় শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের দাদা হাবিবুর রহমান বলেন, এ মৃত্যুর দায় শহীদ একাডেমিক স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। মুহিদুল ইসলাম লামিতের মাথায় আঘাত থাকলেও শরীরের অন্য কোথায় আঘাতের চিহ্ন নাই। এতো ওপর থেকে পড়লে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত থাকবেই। এ ঘটনায় আমরা বিচার চাই।

মুহিদুল ইসলাম লামিতের মা লায়লা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজিব স্যার ভালো না। সজিব স্যারের কারণেই আমি মারা যাব। সজিব স্যারও আমাকে ফোন করে মুইদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতেন। আমি দোষী ব্যক্তির বিচার দাবি করছি।’

স্থানীয়রাও এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। তারা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই তারা এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ বলেন, মুইদের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছে। সে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে।

তিনি বলেন, স্কুল বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেয় না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে এটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *