টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াত: বাধা স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী

জাতীয় টাঙ্গাইল সদর নির্বাচন রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, ইনসাফ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার এবং সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, আটটি আসনের সব কটিতেই মূলত লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। তবে তাঁদের জয়-পরাজয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

 

জানা গেছে, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল-৩, টাঙ্গাইল-৪, টাঙ্গাইল-৫ ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের ভোটারদের মধ্যে কেউ মুখ খুলছেন না। আসনগুলোয় বিএনপি-জামায়াতের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করায় ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টাঙ্গাইল-২, টাঙ্গাইল-৬ ও টাঙ্গাইল-৭ আসনে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

জেলার ৮টি আসনে ভোটের মাঠে ৪৭ জন প্রার্থীকে ভোট দিবেন মোট ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন ভোটার। মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৬৩টি। জেলায় প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ৪০ হাজার ৯৩ জন।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ডা. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম আজাদ (তালা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও তালার মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম পিন্টু (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার (লাঙ্গল) এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোয়ার হোসেন সাগর (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন আবদুস সালাম পিন্টু ও হুমায়ুন কবীর।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির (ধানের শীষ), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাইফুল্লা হায়দার (শাপলাকলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ (মোটরসাইকেল) ও স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী আইনুন নাহার (হাঁস) মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে ওবায়দুল হক নাসির ও লুৎফর রহমান খান আজাদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে অনেকের ধারণা।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে লুৎফর রহমান মতিন (ধানের শীষ), খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা), ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী (লাঙ্গল), আলী আমজাদ হোসেন (হাতপাখা), হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (হাঁস) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম মিঞা (মোটরসাইকেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি পেতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চেষ্টা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এই দুইয়ের মাঝে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে ধানের শীষের রবিউল আওয়াল এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার এ কে এম আব্দুল হামিদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার (হরিণ), জাতীয় পার্টির (জেপি) তারেক শামস খান হিমু (বাইসাইকেল), জাতীয় পার্টির মামুনুর রহিম (লাঙল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ধানের শীষের প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা মার্কার আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির তোফাজ্জল হোসেন (হাতী)ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে আহমেদ আযম খান (ধানের শীষ), শফিকুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), আওয়াল মাহমুদ (কোদাল), আলমগীর হোসেন (প্রজাপতি), নাজমুল হাসান (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে আহমেদ আযম খান, সালাউদ্দিন আলমগীর ও শফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটারদের ধারণা।

টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য ভোটাররা সুষ্ঠু ও সুন্দর নিরাপদ পরিবেশে কেন্দ্রে যেতে পারলে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরায় ফিরে আসবে। টাঙ্গাইলের আটটি আসনের চিত্র বলছে, বেশির ভাগ আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আবার তিনের অধিক আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাবে ত্রিমুখী লড়াই হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা নির্বাচনে অনুপস্থিত আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নীরব হয়ে থাকা এই ভোটাররাই নির্ধারণ করবেন এবারের ভোটের ফল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *