
বাসাইল প্রতিনিধি: বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি পার্বণ হলো পৌষ সংক্রান্তি। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলা যুগ যুগ ধরে পালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিতকায় বাসাইল উপজেলায় পৌষ সংক্রান্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি কীর্তন, পুজার্চনা ও পৌষ সংক্রান্তির মেলার আয়োজন করা হয় বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাপড়া বিলের হিজল গাছের আঙিনায়। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় হাজরো দর্শনার্থীর ভির জমে। তারা দিনব্যাপী পূজা-অর্চণাসহ নানা আয়োজন প্রত্যক্ষ করে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমান নারী-পুরুষ-শিশুদের ভিরে মেলা প্রাঙ্গণ কোলাহল মুখর হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা, গেছে, পার্শ্ববর্তী উপজেলা সখীপুর, মির্জাপুর, কালিহাতীসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে চাপড়া বিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শত বছরের সিদ্ধেশ্বরী হিজল গাছটির আঙিনা। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষসহ শিশু-কিশোরের ভিড়ে কোলাহল মূখর হয়ে পড়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলাকে কেন্দ্র করে বাতাসা, দই, মিষ্টির দোকান, ভাজা পেয়াজো, জিলাপী, চানাচুর, বাদাম, মাটির তৈজষপত্র, বাঁশ বেতের তৈজষপত্র, চটপটির দোকান, শীত বস্ত্রের দোকানসহ ধর্মীয় বিভিন্ন পোষ্টার, ষ্টিকার, ব্যাজ ও মানত সুতার দোকান বসেছে।
কালিহাতী উপজেলার মৃনাল কান্তি বলেন, প্রতি বছর এই মেলা পৌষ মাসের শেষের দিন অনুষ্ঠিত হয় শুনে আসছি। আমাদের এলাকার অনেকেই আসে। এবার মানত নিয়ে আমিও এসেছি। মেলায় ঘুরতে আসা নারী শেফালী সাহা বলেন, চাপড়া বিল তথা বাসুলিয়ার হিজল গাছের আঙিনায় যুগ যুগ ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছোট সময় জেঠাদের সাথে মেলায় আসতাম। আর এখন স্বামী, সন্তান, শশুড়-শাশুড়ী সাথে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি।
শত বছরের ঐতিহ্য এই মেলার নেই কোন কমিটি। সনাতনীদের বিশ্বাস আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পন্ন এই সিদ্ধেশ্বরী হিজল গাছ। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে ওই গাছের পার্শ্ববর্তী মিরিকপুর গ্রামবাসী শতবছর ধরে এই মেলা আয়োজন করে আসছে। তবে মেলার আয়োজনে তারা গ্রামের শিক্ষিত এবং প্রবীণদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
মিরিকপুর গঙ্গাচরণ তপশীলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জগদ্বিশ কর্মকার বলেন, আমার বাপ, দাদাদের মুখে শুনেছি তাদের ঠাকুর দারাও এই হিজল গাছ দেখেছেন। তাদের মুখে শুনেছি- আসাম থেকে এক রাতের মধ্যেই এই গাছ এখানে এসেছিলো। তখন থেকে পূর্বপূরুষেরা এই গাছকে ঘিরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার আয়োজন করে আসছে। আমার বাবা, কাকাদেরও দেখেছি এই পৌষ সংক্রান্তি মেলা করতে। আমরাও ধর্মীয় রীতি পালন করে আসছি। আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয় না। এই মেলা পৌষ মাসের শেষের দিন হয়ে থাকে।
স্থানীয় জামিল হোসেন জানান, যুগ যুগ ধরে পালিত এ মেলায় বাসাইল উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষ আসে। মেলা প্রাঙ্গণে জমির আইল ধরে যেতে হয়- একটি রাস্তার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনও নির্মাণ হয়নি।
বাসাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল জানান, বাসাইলের বাসুলিয়া হিজল গাছের প্রাঙ্গণে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তির মেলা বসে থাকে। প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষের দিন অনুষ্ঠিত এ মেলায় হাজারো দর্শনার্থী ভির করে। তাদের যাতায়াতের জন্য একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করা হবে।
