
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা মনোজ কুমার আর নেই। আজ শুক্রবার সকালে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এই বরেণ্য শিল্পী।
অভিনেতার ছেলে কুনাল কুমার জানান, দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় মনোজ কুমার মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, তবে সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছেন। তাঁর শেষকৃত্য হবে শনিবার সকালে পবন হংসে।
মনোজ কুমার ছিলেন দেশাত্মবোধক সিনেমার এক মুখচ্ছবি। ‘মেরি দেশ কি ধারতি’ গানের পর্দাজুড়ে উপস্থিতি, ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘ক্রান্তি’ কিংবা ‘রোটি কাপড়া অউর মাকান’—সবখানেই তিনি তুলে ধরেছেন দেশের কথা, দেশের ভাবনা। এজন্যই তিনি বলিউডে পরিচিত ছিলেন ‘ভারত কুমার’ নামে। তাঁর হাতে গড়া দেশপ্রেমের গল্পগুলো তাঁকে দিয়েছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০১৬) এবং পদ্মশ্রী সম্মান (১৯৯২)।
অভিনেতার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলিউডের বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীরাও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অক্ষয় কুমার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “আমি তাঁর কাছ থেকে শিখেছি দেশের প্রতি ভালোবাসা কেমন হয়।” লেখক মনোজ মুনতাশির স্মরণ করে লিখেছেন, “‘তেরি মিট্টি’ লেখার অনুপ্রেরণা ছিল মনোজ কুমারই।”
পরিচালক অশোক পণ্ডিত বলেন, “মনোজ ছিলেন প্রাণোচ্ছল মানুষ, বলিউড তাঁর অভাব অনুভব করবে।” আর বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁকে বলিউডের গ্রামার বদলে দেওয়া দূরদর্শী পরিচালক বলে আখ্যা দেন।
১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের অ্যাবোটাবাদে (বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া) জন্ম মনোজ কুমারের। আসল নাম ছিল হরিকৃষ্ণন গোস্বামী। মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৯৫৭ সালে ‘ফ্যাশন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। ১৯৬১ সালের ‘কাচ কি গুড়িয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘গুমনাম’ (১৯৬৫), ‘শহীদ’, ‘উপকার’, ‘পট্থর কে সনম’, ‘সাধনা’সহ অসংখ্য সফল ছবিতে অভিনয় করেন।
১৯৯৫ সালে ‘ময়দান-ই-জংগ’ ছিল তাঁর শেষ সিনেমা। অভিনয়ের বাইরেও নির্মাণ, কাহিনি, চিত্রনাট্য—সব জায়গাতেই মনোজ কুমার রেখেছেন অবিস্মরণীয় অবদান।