
নিজস্ব প্রতিবেদক: দখল-দূষণে জর্জরিত টাঙ্গাইল পৌর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লৌহজং নদীর আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রম শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম।
শুক্রবার, ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের হাউজিং মাঠ এলাকায় লৌহজং নদীর ময়লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।
নদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাফিসা আক্তার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনসারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মুহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বিডি ক্লিন-এর প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি প্রমুখ।
লৌহজং নদীর চার কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে টাঙ্গাইল শহরের হাউজিং ব্রিজপাড় থেকে বেড়াডোমা ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার নদীর বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে বিডি ক্লিনের দুই হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পৌরসভা। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন বাংলাদেশ-এর প্রায় দুই হাজার সেচ্ছাসেবক টাঙ্গাইলে এসেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, লৌহজং নদীটি সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। একসময় শহরের নিরালা মোড় এলাকায় এ নদীর নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা এ নৌবন্দরে ভিরতো। দীর্ঘদিন ধরে নদীটি খনন না করায় নাব্যতা হারিয়েছে। এ সুযোগে দুই তীরের বাসিন্দারা কৌশলে প্রথমে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দখল করছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবন, দেওয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন মিল-কারখানা ও শহরের সব ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলে দূষিত করা হচ্ছে পানি। নদীর পঁচা পানি প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীর দুই তীরের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্রে।
বিগত ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার জন্য আন্দোলনে নামে স্থানীয়রা। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুব হোসেন। ওই সময়ে শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা পর্যন্ত চার কিলোমিটার দখল ও দূষণমুক্ত করা হয়। গত চার বছরে আর কোনো কার্যক্রম না থাকায় নদীর পানি আর ব্যবহার উপযোগী নেই। নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে।