সখীপুর প্রতিনিধি: সখীপুরে সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। তবে এর আগের বছর ২০২৫ সালেও ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল মাত্র একজন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালে সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন নামে একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কলেজ শাখার অধিকাংশ শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ শাখার ভবনের কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে। শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের উপস্থিতি দেখা যায়নি। স্কুল শাখার এক শিক্ষক বলেন, গত বছর কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে কেউ নেই। অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণিতে তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তারা নিয়মিত ক্লাসে আসে না। এ কারণে শিক্ষকেরাও প্রতিষ্ঠানে আসেন না।
কলেজ শাখার অর্থনীতির প্রভাষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর কলেজ শাখায় মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় গত পাঁচ বছর ধরে কলেজ শাখার শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন না।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য দুই শিক্ষার্থী লালন মিয়া ও রানা হাসান বলেন, গত প্রায় দুই বছরে তাদের মাত্র দুই থেকে তিন দিন ক্লাস হয়েছে। এ সময়ে কোনো মাসিক বা নির্বাচনী পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। শুধু ফরম পূরণ করে তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা জয়নাল আবেদীন বলেন, কলেজ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আগে যোগদান করা শিক্ষকেরা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন। তারা এখন আর প্রতিষ্ঠানে আসেন না। খুব দ্রুত ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কলেজ শাখায় ১৬ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও শাখাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। এ কারণে নিয়মিত ক্লাসও হয় না।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ উদ্ঘাটনের কাজ চলছে। যেসব কারণে ফল খারাপ হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।