নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, উপদেষ্টা রিজওয়ানারা ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে তিন ভাগের দুই ভাগ মেজরিটি দিয়েছে। আমার ভোটের আসন থেকে পরিকল্পিতভাবে সংসদে কথা বলার অধিকার রুদ্ধ করে দিয়েছে। আমরা তা মেনে নিয়েছি জনগণের স্বার্থে।
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মামুনুল হক স্পষ্ট করেন যে, তাদের চলমান কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী যে রাজনীতিক শক্তিগুলো রয়েছে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের চলমান আন্দোলন সংগ্রাম-সরকার পতনের আন্দোলন নয়। আমাদের চলমান এ আন্দোলন সরকারের কাছ থেকে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন।
এছাড়া, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভারত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ভারতকে খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমার দেশের খুনি আসামিকে অন্য আরেকটি দেশ পুত্রবধূর মতো আচরণ করছে। বধূর মতো তাকে আরামে-আয়েশে রেখেছে। একটি দেশের পলাতক খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আরেকটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওপেন সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়। এটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি।’
তিনি বলেন, ভারতকে আমরা আহ্বান জানাতে চাই, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করুন। আমাদের দেশের প্রতি সম্মান দেখান। খুনি আসামিকে বাংলাদেশের আদালতে হস্তান্তর করুন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের টাঙ্গাইল জেলার সভাপতি কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদি, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জায়েদ হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রাসেল প্রমুখ।