মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে পরিবেশ রক্ষা ও প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে উৎসাহ দিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে তার বিনিময়ে খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য কমছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
মঙ্গলবার, ১৬ জুন দিনব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন হাসি ফুটিয়েছে মির্জাপুর উপজেলার হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের মুখে। এখানে প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে চাল, ডাল, চিনি ও ডিম লবণ, তেল, স্কুল ব্যাগ, সুজি, বিস্কুটসহ ১৬ ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। সংস্থার প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরে ৬-৭ কেজি প্লাস্টিক জমা দিয়ে ব্যাগ ভরে বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কেউ ২ কেজি, কেউ ৫ কেজি আবার কেউ নিয়ে এসেছেন ৭ কেজি প্লাস্টিক। এইসব প্লাস্টিক জমা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের পছন্দমতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। ফাউন্ডেশনটি ব্যবহার রোধে ভিন্নধর্মী বাজারের আয়োজন করে।
প্লাস্টিক দিয়ে পণ্য নিতে আসা রইজ উদ্দিন, আমি ১০ কেজি প্লাস্টিক দিয়ে তেল, ডাল, চিনি নিয়েছি। এই উদ্যোগ মানুষকে পরিবেশ সচেতন করতে সহায়তা করছে। একই সা প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনায় উৎসাহিত করছে।
মুহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি ৫ কেজি প্লাস্টিক দিয়ে বিভিন্ন জিনিস নিয়েছি। তাদের এ কার্যক্রমকে আমরা স্বাগতম জানাই।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, সারা বিশ্বেই প্লাটিক দূষণ খুবই সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এই ব্যাপক দূষণ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে প্লাটিকগুলো আমরা সরবরাহ করছি। পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা এবং প্লাস্টিক দূষণ কমানোর লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি হেড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং ব্র্যান্ড মার্কেটিং বিটপী দাশ চৌধুরী বলেন, আমি পরিবেশ থেকে প্লাটিক দূরিকরণের কাজ করছি। আমরা ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ করে থাকি। প্লাটিকের ওজনের অনুপাতে টোকেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হয়।