মির্জাপুর প্রতিনিধি: মির্জাপুরে গভীর রাতে প্রেমিকার ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর শফি সিকদার নামে এক বিএনপি নেতাকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুজনের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।
এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার, ৯ জুন বিকেলে শফি সিকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সোমবার রাত ১২টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামে ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বিয়ের কয়েক মাস পর ওই নারী স্বামীকে তালাক দিয়ে তিন বছর আগে সৌদি আরব চলে যান। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। এরমধ্যে বিএনপি নেতা শফির সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শফিক প্রায় রাতেই তার বাড়িতে যেতেন। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসে। সোমবার রাতে স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে গোপন পাহারার ব্যবস্থা করেন। রাত ১১টার দিকে শফি ওই নারীর ঘরে ঢুকলে স্থানীয় লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ঘেরাও করে তাদের আটক করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এসময় তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হন। পরে দুজনের সম্মতিতে ৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে শফিকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, জনতার হাতে দুষ্কৃতকারী আটকের খবর পেয়ে শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে মীমাংসা ও বিয়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।