নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদারদের জমিদখল পায়তারার অভিযোগ এনে জমিদার পরিবারের প্রতিনিধি, সাবেক সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলী খান টিপু পন্নী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার, ১১ মে সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে করটিয়া ইউনিয়নের বীরনাহালী গ্রামে তার বাবার সাড়ে ১১ একর জমি বেদখল নিয়ে তিনি বলেন, আমার সাড়ে এগার একর জমি আমার পিতার নামে ছিলো এবং আছে। এ জায়গায় গত ২০-২২ বছর অনেকেই অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলো। আমি কোর্টে গিয়ে আমাদের সম্পত্তির বুঝে পেলাম। আমরা যখন বীরনাহালী জমি মাপযোগ হল। তখন কিছু লোক কিছু ভুয়া কাগজপত্র দেখালো। তারপরও দখলে থাকা তাদের বুঝালাম। আমরা সব জমি বুঝে নিতে আসিনি। আমরা এখানে একটি সবুজ শাকসবজি তৈরী প্রকল্প করবো এবং সেটা বিদেশেও রপ্তানি করা যায়। এই সবুজ শাকসবজি বিদেশে প্রচুর চাহিদা। এখানে কাজ করতে অনেক লোকবল লাগবে। এলাকার লোকজনই এই কাজে অগ্রাধিকার পাবে।
আমরা ঢাকার একটি কোম্পানির সাথে যুক্ত হই এবং তখন ওই জায়গা সবুজ শাকসবজি প্রকল্প তৈরীর জন্য বেকু আনা হয়। করটিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলীকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই জমিতে অবৈধ দখলরা প্রায় ৩০০ গাছ লাগিয়ে ছিলো। তাদেরকে নিদের্শ দেওয়ার পর তারা গাছ কেটে নেয়। কিন্তু ইউসুফ আলী যখন গাছের শিকড় তোলার জন্য বেকু নিয়ে আসে, তখন বেকুর ওপর হামলা চালায়। বেকুর গ্লাস ভেঙে ফেলে। বেকুর দামি ব্যাটারী নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মানববন্ধন করে।
এই মানববন্ধনের নিউজ করতে শহরের কিছু ইউটিউবার নিয়ে আসে। তারা এই ইউটিউবার জমির প্রকৃত মালিককে কিছু প্রশ্ন না করেই মনগড়া তথ্য দিয়ে সেটা অনলাইনে প্রচার করে। তারা বিএনপির নেতা সাতিল সাহেবকে নিয়েও নিউজ করে। আমি একসময় বিএনপির ফাউন্ডার মেম্বার ছিলাম। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছি। বর্তমানে আমি কোন পার্টি করি না। আমার কাছে এই ঘটনাটা মনে হয় বিএনপিকে খাটো করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ওখানে তো মাটি কাটা হয়নি, বেকু ওখানে রাখা হয়েছে অন্য কাজে। বেকু তো কয়েকদিন ওখানে বসা ছিলো। মাটি কাটলে তো আগেই কাটতে পারতো। এখানে মানববন্ধন করার মতো কিছু হয়নি।
এখানে অনেক দিন আগেই ঢাকা থেকে এসে থাকার জন্য একটি ঘর তৈরী করেছি। এখানে মাঝে আমি আসি, বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী অতিথিদের মেহমানদারী করি। সেই ঘরটিও তারা ভেঙে ফেলেছে। এই এলাকার জহির উদ্দিন তালুকদারসহ অন্যরা এই সব অন্যায় কাজগুলো করছেন।
তিনি আরো বলেন, নদীর ভাঙন রোধে টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীকে বলেছি নদী ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার জন্য। তিনি জিওব্যাগ ফেলার জন্য কথা দিয়েছেন। আপনারা সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন এবং নিউজ করুন। প্রয়োজনে সঠিক তথ্যর জন্য বীরনাহালী আসুন।
সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে ইউসুফ আলীও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।