বাসাইল প্রতিনিধি: বাসাইল উপজেলার ফুলকি দক্ষিণ পাড়া সোনার বাংলা বাজারে অবস্থিত একটি কালীমন্দিরের জায়গায় নির্মিত মার্কেটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিরত চন্দ্র সূত্রধর দাবি করেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং সেই সময় থেকে মার্কেটের দোকান ভাড়া আদায় করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ নন; বরং সাবেক কোষাধ্যক্ষ শরৎচন্দ্র শীল তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো রশিদ প্রদান করা হয় না এবং দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনো লিখিত চুক্তিপত্র নেই বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সব কিছু মৌখিক আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মার্কেটের প্রতিটি কক্ষ থেকে মাসিক ২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয় এবং এ নিয়ে খুব কমসংখ্যক মানুষ আপত্তি জানিয়েছেন। তার দাবি, মন্দির-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। বাজারের অন্যান্য দোকানের তুলনায় ভাড়া কম কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ শরৎচন্দ্র শীল সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে অভিযোগ করেন, নিরত চন্দ্র সূত্রধর জোরপূর্বক তাকে সরিয়ে ওই পদ দখল করেছেন এবং বর্তমান কমিটি বৈধ নয়। তিনি বলেন, মন্দিরের জায়গায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং মন্দিরের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার মতে, মন্দিরকে প্রাধান্য দিয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নামমাত্র ভাড়ায় কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি সুভাশ দাশ, সেমল দাশ,মুনান শীল, পরেশ পাল, নীরব সূত্রধর ও দয়াল চোকিদারকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলক। সমস্যার সমাধানে তিনি এক যুগ আগের ‘মনগড়া’ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায্য ভাড়ায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফুলকি ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও অবগত আছেন। তবে তার অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ আলোচনায় বসতে দেরি করছে।
এদিকে কালীমন্দিরের বর্তমান সভাপতি আশিষ বাবু মোবাইল ফোনে জানান, শিগগিরই স্থানীয়দের নিয়ে বসে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে এ বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।