নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদযাত্রায় সারা দেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এরমধ্যে ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের চাপে ১৪টি স্থানে যানজট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ প্রতিবছরই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।
জানা যায়, এবারে ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায় দুটি কারণে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমত, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সরু সড়ক ও অব্যবস্থাপনা। অপরটি হচ্ছে যমুনা সেতুতে টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ এবং টোল আদায় নিয়ে।
সিরাজগঞ্জের শুভযাত্রা এন্টারপ্রাইজের বাসচালক জুল হোসেন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই মুহূর্তে যমুনা সেতু টোল প্লাজা থেকে সরু সেতুতে যানবাহন ধীরগতি হয়ে পড়ে। তাই এ বছরও যানজটের শঙ্কা রয়েছে।
নির্জনা এন্টারপ্রাইজের বাসচালক আইয়ুব আলী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে তিনটি স্পট রয়েছে। প্রশাসন তিনটি স্পটকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে এবারের ঈদ যাত্রা হতে পারে স্বস্তিদায়ক। সে তিনটি স্পট হচ্ছে এলেঙ্গা, গোলচত্বর এবং টোল প্লাজাসহ সেতু। এই তিনটি জায়গায় যানবাহনের জটলা হলেই যানজট হতে সময় লাগবে না।
বাস হেলপার আব্দুল বাসেত বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে ঈদ এলেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন যত্রতত্রভাবে চলাচল করে। আর সেসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে একবার নষ্ট হলেই মনে করতে হবে ঈদের যানজট দীর্ঘ হলো। কারণ সেই যানবাহন উদ্ধার করতে সর্বনিম্ন হলেও ৩০ মিনিটে সময় লাগে। আর ঈদের সময়ে ৩০ মিনিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের নজর রাখতে হবে এই ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দিকে।
সাহেব আলী নামে আরেক চালক বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুতে মোটরসাইকেল চালকরা আরেক যন্ত্রণা। তারা একটু ফাঁক পেলেই মোটরসাইকেলের মাথা ঢুকিয়ে দেন। যদিও মোটরসাইকেলের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ আলাদা টোল প্লাজার ব্যবস্থা করেন, কিন্তু ভোগান্তি করতে হয় সেতুর উপর। ঈদের সময় যানবাহন সেতুতে ধীরগতি এবং একটার সঙ্গে আরেকটা লাগালাগি থাকে। সেই মুহূর্তে একটু জায়গা পেলেই মোটরসাইকেল চালকরা ঢুকিয়ে দেন। এতে বড় যানবাহনের চালকদের সমস্যা হয়। এটিকে প্রশাসন রোধ করতে পারলে মনে হয় ভালো হত।
উত্তরাঞ্চলের শ্রাবণ এন্টারপ্রাইজের বাস চালক সালাউদ্দিন জানান, গত কয়েক বছর ধরে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত কাজ চলছে। সে কাজের ধীরগতি এত যন্ত্রণাদায়ক যা বলা যাচ্ছে না। মহাসড়কের কত বড় বড় কাজ শেষ হয়ে গেল, আর অল্প একটু জায়গায় তাদের জন্য কাজ শেষ হচ্ছে না। ঈদ আসলে তারা বড় বড় বুলি ছোড়ে, কিন্তু কাজের কী গতি বাড়ায়। এটাকে প্রশাসনের নজরে নেওয়ার জন্য তার অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে আব্দুল মোনেম লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, মহাসড়কের দুপাশের চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, এবার ঈদযাত্রায় কোনো সমস্যা হবে না।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৪টি স্পট চিহ্নিত করেছি। এসব স্পটে তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের ৫ দিন আগে থেকে যানজট নিরসনে মহাসড়কে এক হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। অছাড়াও ঈদের পরেও সাত দিন পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন মহাসড়কে।
উল্লেখ্য, গত বছর ঈদের আগে ছুটি বাড়িয়ে যানজট থেকে কিছুটা মুক্তি মিলেছিল। এবারও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে সরকার। তাছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে কারখানাগুলো বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙা সড়ক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অবৈধ স্থাপনা, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহনে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।