নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসায় অবহেলায় চারজনের মৃত্যু এবং একজনকে ভুল চিকিৎসা-প্রতিবেদন দিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ চিকিৎসকের পূর্ণ নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
গত রোববার বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের নাম কাউন্সিলের রেজিস্টার থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন স্থগিত হওয়া চিকিৎসকরা হলেন রাজধানীর মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টারের ডা. ইশতিয়াক আজাদ, ডা. মাহবুব মোরশেদ ও ডা. এস এম মুক্তাদির; বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাসনুভা মাহজাবীন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ; ঝিনাইদহের শৈলকুপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতাল ও ছন্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. তৌহিদুর রহমান ও ডা. সোহেলী ইসলাম; এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের আলোক হেলথ কেয়ারের ডা. মেরিনা জেসমিন, ডা. মো. শাইখুল আরাফাত ও ডা. মো. এছহাক আলী।
এর মধ্যে ডা. ইশতিয়াক আজাদ ও ডা. এস এম মুক্তাদিরের রেজিস্ট্রেশন দুই বছরের জন্য, ডা. তৌহিদুর রহমান ও ডা. সোহেলী ইসলামের এক বছরের জন্য এবং বাকিদের ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিএমডিসির ৫৪তম কাউন্সিল সভায় উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ধারা ২৩(১) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল প্রবিধানমালা, ২০২২-এর বিধান ৩৬ (৪) (খ) অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঘাটাইলে আলোক হেলথ কেয়ারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছে বলে জানানো হয় দিনমজুর জামাল হোসেনকে। পরপর দুইবার একই ফলাফল আসে। পরে ধারদেনা করে অপারেশনের জন্য ভর্তি হলে অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে চিকিৎসক জানান, তার পিত্তথলি নেই। জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তার কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিএমডিসির সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা চিকিৎসা পেশায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।