নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রেনে পানি বিক্রি করে পরিবারের খরচ যোগাত পথশিশু সিয়াম (১১)। ট্রেন এলে দৌড়ে উঠতো এক বগি থেকে আরেক বগিতে গিয়ে পানি বিক্রি করতো। কিন্তু ঘুমন্ত অবস্থায় ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তার পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৭ নং ওয়ার্ডের একটি বেডে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে সিয়াম। পাশে নেই কোনো স্বজন, নেই বাবা-মায়ের সান্ত্বনার হাত। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা এখনো তার পরিবারের সন্ধান পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সে একজন পথশিশু- চলতি রেলে স্টেশনকেন্দ্রিক পানি বিক্রয়ই ছিল তার জীবিকা।
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাতুটিয়া এলাকা থেকে স্থানীয়রা সিয়ামকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সিয়াম তার ঠিকানা বলেছে, বাবার নাম- জাহাঙ্গীর, মায়ের নাম- শাপলা, দাদার নাম- মৃত শহীদুল, বড় চাচা- মজি ফকির, নানার নাম- শাহাদ, নানার বড় ভাই- আহাদ, মামা- সবুজ, মামী-বিজলী, তার নানা বাড়ির ঠিকানা- ছিপতিপাড়া, বেলতলা, থানা- বাঘমারা, জেলা- রাজশাহী। তার বাড়ির ঠিকানা বলেছে, গ্রাম-হিন্দুপাড়া, ইউনিয়ন মাধনগর, জেলা নাটোর।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন না হলে সিয়ামের স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলার সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন- কে নেবে সিয়ামের চিকিৎসার দায়িত্ব? কে এগিয়ে আসবে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে? মানবিক সহায়তার হাত বাড়ালে হয়তো আবারও দাঁড়িয়ে যেতে পারবে ছোট্ট এই শিশুটি। এ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে সিয়ামের ছোট্ট প্রশ্ন, আমি কি আবার হাঁটতে পারবো?
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, পথ শিশুদের সুরক্ষায় কোনো সরকারই দায়িত্ব নেয়নি। এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো তেমন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে না। হাসপাতালে সমাজ সেবা থাকলেও তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। পথশিশুদের পুনর্বাসন দরকার, নিরাপদ বাসস্থান দরকার। তিনি আরো বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে সিয়ামের সার্বিক খোঁজখবর নেবো। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, এক পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। ওর পরিবার বা স্বজনদের কারো খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের সমাজ সেবা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।